উৎসবের রাতে জাদুঘরের ৯ কোটি ডলারের ৪ মাস্টারপিস চুরি | চ্যানেল আই অনলাইন

ইতালির সিসিলি দ্বীপের মেসিনা শহরের আঞ্চলিক আন্তঃবিভাগীয় জাদুঘর (MuMe) থেকে বিখ্যাত রেনেসাঁ শিল্পী অ্যান্টোনেল্লো দা মেসিনার চারটি মূল্যবান শিল্পকর্ম চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া শিল্পকর্মগুলোর আনুমানিক মূল্য ৮ কোটি ইউরো বা প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

ইতালির সাংস্কৃতিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম রোববার (১৫ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই সময় সিসিলিতে গুরুত্বপূর্ণ ফেরাগোস্তো উৎসব চলছিল। মেসিনার কেন্দ্রীয় এলাকায় ঐতিহ্যবাহী ভারা শোভাযাত্রাকে ঘিরে বিপুলসংখ্যক মানুষ ও পুলিশ সদস্যের উপস্থিতির সুযোগ নেয় চোরেরা বলে জানিয়েছে ইতালীয় সংবাদমাধ্যম।

‘ইল জিওর্নালে দেল্ল’আর্তে’ জানায়, ভায়ালে আনুনজিয়াতা সড়কের পাশের একটি ধাতব বেড়া কেটে জাদুঘর প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে চোরেরা। পরে পাশের একটি দরজা ভেঙে গ্যালারিতে ঢোকে তারা।

গ্যালারিতে ঢুকে সুরক্ষিত কাচের প্রদর্শনী ভেঙে ১৪৬৫ থেকে ১৪৭৪ সালের মধ্যে তৈরি একটি ছোট দুই পিঠের টেম্পেরা প্যানেল নিয়ে যায় চোরেরা। শিল্পকর্মটির এক পাশে ভার্জিন মেরি ও শিশু যিশুর সঙ্গে একজন ফ্রান্সিসকান সন্ন্যাসী এবং অন্য পাশে ‘ক্রাইস্ট ইন পিয়েতা’ চিত্রিত রয়েছে।

এ ছাড়া অ্যান্টোনেল্লোর ঐতিহাসিক ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’-এর পাঁচটি কাঠের প্যানেলও খুলে ফেলে চোরেরা। ১৪৭৩ সালে সান্তা মারিয়া মঠের জন্য অ্যাবেস ফ্যাব্রিয়া সিরিনোর নির্দেশে এটি তৈরি করেছিলেন অ্যান্টোনেল্লো। ১৯০৮ সালের ভূমিকম্পে মঠটি ধ্বংস হয়ে যায়।

চোরেরা পলিপটিকটির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে পালিয়ে যায়। বাকি দুটি প্যানেল, যাতে সেন্ট বেনেডিক্ট ও সেন্ট গ্রেগরিকে দেখা যায়, জাদুঘরের বাইরে দেয়ালের পাশে ফেলে যায় বলে জানিয়েছে ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ‘লা রিপাবলিকা’।

‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’কে মেসিনা শহরে টিকে থাকা অ্যান্টোনেল্লোর একমাত্র বড় শিল্পকর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জাদুঘরের পরিচালক মারিসা মারকুরিও ইতালীয় বার্তা সংস্থা এএনএসএকে বলেন, ‘আমরা যা ঘটেছে তাতে বিধ্বস্ত। এগুলো অ্যান্টোনেল্লো দা মেসিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সুপরিচিত দুটি শিল্পকর্মের মধ্যে পড়ে।’

স্থানীয় সংস্কৃতিবিষয়ক কাউন্সিলর এনজো কারুসো বলেন, ল্যুভরের মতো সিনেমার দৃশ্যের একটি চুরি মেসিনায় ঘটতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

চলতি বছরের শুরুতে ইতালির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় অ্যান্টোনেল্লোর ‘Ecce Homo’ চিত্রকর্মটি ১ কোটি ৪৯ লাখ ডলারে কেনে। এর পর শিল্পীর কাজ নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ আরও বেড়েছে বলে জানান কারুসো।

শিল্প অপরাধ গবেষণা সংস্থা ‘এআরসিএ’র প্রধান নির্বাহী লিন্ডা অ্যালবার্টসনের মতে, অ্যান্টোনেল্লোর মতো বিখ্যাত শিল্পীর কাজ চুরি করা তুলনামূলক সহজ হলেও এগুলো বিক্রি করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ এসব শিল্পকর্মের পরিচিতি ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক বেশি।

তিনি বলেন, এ ধরনের উচ্চমূল্যের শিল্পকর্ম সাধারণত প্রকাশ্য বাজারে বিক্রি করা যায় না। ফলে অপরাধী চক্রের কাছে এগুলো দীর্ঘদিন ধরে অন্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে থাকতে পারে।

প্রায় ১৪৩০ সালে সিসিলিতে জন্ম নেওয়া অ্যান্টোনেল্লো দা মেসিনা প্রারম্ভিক ইতালীয় রেনেসাঁ যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী। তার খুব অল্পসংখ্যক শিল্পকর্ম টিকে আছে। এ কারণে তার বিদ্যমান কাজগুলোকে অমূল্য সাংস্কৃতিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মেসিনার এই চুরির কয়েক দিন আগেই উত্তর ইতালির পারমায় আরেকটি বড় শিল্প চুরির ঘটনায় পুলিশ রেনোয়া, সেজান ও মাতিসের তিনটি চুরি যাওয়া চিত্রকর্ম উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া শিল্পকর্মগুলোর সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার।

Scroll to Top