‘শেকড়’, ‘লাইফলাইন’ সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তরুণ অভিনেত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা ইভা।
তেজগাঁও কলেজে পড়ার সময় থিয়েটার করতেন সত্য; কিন্তু কখনো ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন, ভাবেননি। ফাতেমাতুজ জোহরা ইভাকে না জানিয়েই বিজ্ঞাপনচিত্রের জন্য তাঁর ছবি জমা দেন এক বন্ধু। পরে সেই বিজ্ঞাপনচিত্রে ডাক পান।
ওই বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়েই ২০১৮ সালের দিকে অভিনয়ে ইভার অভিষেক। শুটিংয়ে গিয়ে বুঝলেন, ক্যামেরার জগৎটি একেবারেই আলাদা। কোথায় ক্যামেরা রাখা হয়েছে, কোন দিকে তাকাতে হবে—এসবও জানতেন না। চরিত্রটি ছোট ছিল, তবে বিজ্ঞাপনচিত্রটি ইভাকে পরিচিতি এনে দেয়।
এর মধ্যে নির্মাতা শাহাদাত রাসেলের স্বল্পদৈর্ঘ্য সিটি অব লাইট–এও ইভাকে দেখা গেছে।
২০২০ সালে বিবিসি অ্যাকশন মিডিয়ার একটি প্রকল্পে পোশাকশ্রমিকের চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। চরিত্রটির কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কাজটি প্রকাশের পর থেকে তাঁর কাছে একই ধরনের চরিত্র, যেমন—পোশাককর্মী বা গৃহকর্মীর চরিত্রের প্রস্তাব আসতে থাকে। কিন্তু নিজেকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে রাখতে চান না। তাই পরে এ ধরনের কাজ কমিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
২০২৪ সালে ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ বিজ্ঞাপনচিত্রে একজন প্রবাসীর স্ত্রীর চরিত্র করে প্রশংসা পান ইভা। তিনি মনে করেন, কাজটি তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

সিনেমায় ইভা
মডেলিং করে পরিচিতি পাওয়ার পর নির্মাতা আসিফ ইসলামের নির্বাণ দিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে নাম লেখান ইভা। সিনেমাটি মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্পেশাল জুরি পুরস্কার অর্জন করে। ইভা জানান, আসিফ ইসলামের আরেকটি সিনেমা করার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই ছবি হয়নি। পরে নির্বাণ করেন।
২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এম রাহিম পরিচালিত জংলি সিনেমায় ছোট একটি চরিত্রে ইভাকে দেখা গেছে।
এই বছরের জুনে কাজী আসাদ পরিচালিত চরকি অরিজিনাল ফিল্ম লাইফলাইন–এ স্বল্প সময়ের উপস্থিতিতে আলাদা করে নজর কেড়েছেন ইভা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে আলোচনাও দেখা গেছে।
আশফাক রহমান নামের এক দর্শক লিখেছেন, ‘লাইফলাইন–এ ইভা স্বল্প সময়ের জন্য অভিনয় করেছেন। কিন্তু তাতেই ভালো অভিনয় করেছেন। যেটা তার সহজাত। আমার ধারণা হচ্ছে, সে আস্তে আস্তে দারুণ অভিনেত্রী হয়ে ওঠবে।’

গত শুক্রবার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রসূন রহমানের শেকড় সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন ইভা। এতে বকুল নামে মফস্সলের এক বালিকার চরিত্রে তাঁকে দেখা গেছে।
মুক্তির অপেক্ষায় থাকা মাস্টার সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন ইভা।
বাণিজ্যিক নাকি স্বাধীন চলচ্চিত্র, কোন ধরনের চলচ্চিত্র নিয়ে বেশি আগ্রহী—জানতে চাইলে ইভা জানান, তাঁর কাছে সিনেমার গল্প এবং চরিত্রটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাণিজ্যিক সিনেমা হোক কিংবা বিকল্প ধারার সিনেমা—সিনেমার গল্প এবং চরিত্রটি যদি তাঁকে টানে, তবে তিনি উভয় ধরনের কাজই করতে রাজি।
তিনি ভয়েস আর্টিস্টও
অভিনয়ের বাইরে ইভার আরেকটি পরিচয় আছে। তিনি একজন ভয়েস আর্টিস্ট। ২০১৯ সালে দুরন্ত টিভির অ্যানিমেশনে কণ্ঠ দেওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় সেই যাত্রা। পরে ইউনিসেফ, ইউএনডিপির বিভিন্ন তথ্যচিত্র, বিজ্ঞাপন এবং সিনেমার ডাবিংয়েও কাজ করেছেন।

সামনে আরও বড় স্বপ্ন
গায়ের রঙের কারণে অনেক সময় ইভাকে নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রেই ভাবা হয়েছে। কিন্তু এসবকে বাধা হিসেবে দেখতে চান না তিনি। তাঁর বিশ্বাস, একজন শিল্পীর পরিচয় তৈরি করে তাঁর কাজ।
ইভা বলেন, ‘আমি আসলে অ্যাক্টিং করতে চাই। আমি এই জায়গায় টিকতে পারব কি না, সময় ঠিক করে দেবে। এটা আমার হাতেও নেই পুরোটা। তবে আমার প্ল্যান এই যে ধরেন সেরা পাঁচজন অভিনেত্রী মধ্যে আমার নাম থাকবে।’
ঢাকায় জন্ম হলেও বরিশালে কেটেছে ইভার শৈশব ও কৈশোর। ছোটবেলায় স্থপতি হওয়ার স্বপ্ন ছিল। পরে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে ভেবেছিলেন, ব্যাংক কর্মকর্তা হবেন। শেষ পর্যন্ত অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিয়েছেন তিনি।