চট্টগ্রামের রাউজানের কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম.এ মাদরাসাকে দ্বীনি শিক্ষার অনন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। তিনি বলেছেন, ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা, খেলাধুলা ও শারীরিক চর্চায়ও গুরুত্ব দিতে হবে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) চট্টগ্রামের কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম.এ মাদরাসার মূল ক্যাম্পাস ও মহানগর ক্যাম্পাস পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাদরাসার মূল ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদরাসা গভর্নিং বডির সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুর। অনুষ্ঠানে ভাইস চ্যান্সেলরের একান্ত সচিব সহকারী অধ্যাপক আশফাক আখতারসহ মাদরাসার শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান বলেন, কাগতিয়া মাদরাসা পরিদর্শন করে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। বিশেষ করে মাদরাসার সুবিশাল লাইব্রেরি তার নজর কেড়েছে। সেখানে ইসলামের মূল উৎসের আরবি ভাষায় রচিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রয়েছে।
তিনি শিক্ষার্থীদের যোগ্য আলেম হওয়ার স্বপ্ন লালন করার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষার সঙ্গে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ‘এটি তাকওয়াভিত্তিক একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান। এত চমৎকার একটি মাদরাসা তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম দেখেছেন।’
মহানগর ক্যাম্পাস পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা ক্যাম্পাসটি তার মনে ভিন্ন ধরনের অনুভূতি তৈরি করেছে।
তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক চর্চার প্রতিও উৎসাহিত করেন।
পরিদর্শন শেষে মাদরাসা প্রাঙ্গণে একটি গাছ লাগিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুর বলেন, কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম.এ মাদরাসা দীর্ঘদিন ধরে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রত্যন্ত এলাকায় থেকেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, হযরত গাউছুল আজম (রা.) এই মাদরাসার উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার দেখানো ধারাবাহিকতা বর্তমান অধ্যক্ষও ধরে রেখেছেন।
প্রফেসর আবুল মনছুর বলেন, মাদরাসাটিতে ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় রয়েছে। সুবিশাল অবকাঠামো, শক্তিশালী একাডেমিক কার্যক্রম, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, দক্ষ শিক্ষক এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম প্রতিষ্ঠানটিকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘কাগতিয়া কামিল এম.এ মাদরাসা দ্বীনি শিক্ষার অনন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।’
তার মতে, শিক্ষা ও নৈতিকতার সমন্বয়ের মাধ্যমে আলোকিত মানুষ গড়ে তোলার পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতেও প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখছে।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর মাদরাসার মূল ও মহানগর ক্যাম্পাস পরিদর্শন করায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষে মিলাদ ও কিয়াম অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা এবং কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর ফুয়ুজাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।


