ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরের দক্ষিণ শ্যামপুরে একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বোমা ও বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এ ঘটনায় বোমাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে আবদুল জলিলের বাড়িতে সিটিটিসি ও সাভার মডেল থানা-পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটিসির একটি দল জানতে পারে, ওই এলাকায় জেএমবির সদস্যরা অবস্থান করছেন এবং তাদের কাছে বিস্ফোরক রয়েছে। পরে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে বোমাসহ বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য উদ্ধারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ শ্যামপুরের ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, আটকের সময় ওই ব্যক্তির সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি পাঁচটি শক্তিশালী পাইপবোমা উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটির নিচতলার একটি কক্ষ থেকে আরও বেশ কিছু একই ধরনের বোমা এবং বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
ওসি সাইফুল আলম জানান, আটক ব্যক্তি গত ১ আগস্ট ওই বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। অভিযান চলাকালে বাড়িটি ঘিরে রাখে থানা-পুলিশ ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা।
বাড়ির মালিক আবদুল জলিলের মেয়ে ইলমা বলেন, ‘আব্বাস আলী নামের একজনসহ আরও একজন বাসা ভাড়া নিতে আসার পর ২ আগস্ট তাদের ভাড়া দেওয়া হয়। তারা সম্ভবত ৩ আগস্ট রাত থেকে থাকা শুরু করে। তারা বলেছিল স্বামী-স্ত্রী থাকবে এবং পাশের একটি স্কুলে বাচ্চাদের পড়াবে। ফ্যামিলি ভেবে আমরা বাসা ভাড়া দিয়েছি। ভেতরে যে এত কিছু লুকিয়ে রেখেছে, এটা আমরা জানতাম না। তারা বলেছিল তারা গাড়ি চালায়, ড্রাইভার।’
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া বোমা ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম নিয়ে তদন্ত চলছে। ওই ব্যক্তির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত ৩০ জুলাই সাভারের আশুলিয়ায় একটি মুদি দোকানে ফেলে যাওয়া একটি ভ্রমণব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি বোমা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পরে সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।


