পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস জুম ছাড়া পূর্ণ হয় না। জমির ব্যবহার, বসতির অবস্থান, খাদ্যাভ্যাস, সামাজিক সম্পর্ক, এমনকি উৎসব ও ধর্মীয় আচারও দীর্ঘদিন ধরে জুমকে ঘিরে গড়ে উঠেছে।
চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, বম, খুমি, খিয়াং, পাংখোয়া, চাক, লুসাইসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠী নিজস্ব পদ্ধতিতে জুমচাষ করে আসছে। সব জনগোষ্ঠীর জুম এক নয়; স্থানীয় পরিবেশ ও সংস্কৃতির ওপর নির্ভর করে ফসল, সময় ও পদ্ধতিও বদলে যায়।
গত কয়েক দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবহারে বড় পরিবর্তন এসেছে। ষাটের দশকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে বিপুল উপত্যকা ও কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হয় এবং পাহাড়ের ঢালে কৃষির চাপ বাড়ে। পরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন বসতি, সংরক্ষিত বন, সড়ক, পর্যটন, ফলের বাগান, রাবারসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক চাষ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে জুমের জন্য উন্মুক্ত জমি কমতে থাকে।
এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে জুমের আবর্তকালে। আগে যে জমি বহু বছর পতিত রাখা যেত, এখন অনেক ক্ষেত্রেই কয়েক বছরের মধ্যে সেখানে আবার চাষ করতে হচ্ছে। ফলে বন পুনর্জন্মের সময় কমে যাচ্ছে, মাটির জৈব উপাদান ও উর্বরতার ওপর চাপ পড়ছে, আগাছা ও রোগবালাই বাড়ছে এবং ফলন কমছে।



