
ঢাকা, ৫ আগস্ট – দেহে আন্দোলনের ক্ষতচিহ্ন আর মনে দেশ পুনর্গঠনের অদম্য স্পৃহা—এই দুইকে সম্বল করে হাসপাতালের শয্যা থেকে সরাসরি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর উদ্বোধনী মঞ্চে এসে হাজির হলেন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আহত বীর যোদ্ধা মিতু।
বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সাবেক গণভবনে (বর্তমান স্মৃতি জাদুঘর) আয়োজিত এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানেই ঘটে এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও আবেগঘন মুহূর্তটি।
চব্বিশের জুলাই সংগ্রামের রক্তক্ষয়ী দিনে গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ দিন ধরে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন মিতু। চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে থাকা সত্ত্বেও জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে সহযোদ্ধাদের রক্তে অর্জিত এই স্মৃতি জাদুঘর দেখার আকুলতা তিনি চেপে রাখতে পারেননি।
সব শারীরিক প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে সরাসরি হাসপাতাল থেকেই তিনি এসে পৌঁছান শেরেবাংলা নগরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থলে। তিনি ছিলেন ঐতিহাসিক ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভার অন্যতম আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি।
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি কথা বলেন চিকিৎসাধীন এই জুলাই যোদ্ধার সঙ্গে।
অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজে এগিয়ে গিয়ে মিতুর মুখোমুখি হন এবং অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেন। চিকিৎসার বর্তমান অগ্রগতি কতটুকু, কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না—সেসব বিষয়ে বিস্তারিত জানার পাশাপাশি রাজপথের এই বীরের সাহস ও মহান আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাও জ্ঞাপন করেন সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আহত যোদ্ধা মিতুর এই খোলামেলা ও আবেগপূর্ণ কথপোকথনের দৃশ্য দেখে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ, অন্যান্য জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এক অভাবনীয় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফিতা কেটে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘গণভবন’-কে জনমানুষের ত্যাগের স্মারক হিসেবে ‘স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়। আজ অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে সেই ঐতিহাসিক জাদুঘরের যাত্রা শুরু হলো মিতুর মতো শত শত আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের ভালোবাসায়।
এনএন/ ৫ আগস্ট ২০২৬


