তথ্যহীনতার সংকট: পুঁজিবাজারের সুরক্ষায় ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন কেন অপরিহার্য

তথ্যহীনতার সংকট: পুঁজিবাজারের সুরক্ষায় ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন কেন অপরিহার্য

ত্রৈমাসিক ফাইল জমা দেওয়া কোম্পানিগুলোর জন্য একধরনের ‘অপ্রয়োজনীয় বোঝা’—নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই যুক্তি পুঁজিবাজারের মূল দর্শনকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির নিয়মকানুনগুলো একটি কঠোর কাঠামোর অধীন, যা বিএসইসি, সেবি কিংবা সিএসআরসির মতো সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কম খরচে মূলধন সংগ্রহ করে। এর বিনিময়ে কোম্পানিগুলো গোপনীয়তা বাদ দিয়ে প্রতিনিয়ত কমপ্লায়েন্স মেনে চলতে, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করতে ও কঠোর আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে বাধ্য।

ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন তুলে দেওয়ার প্রস্তাব পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক পশ্চাদপসরণ। বাংলাদেশ যদি স্বেচ্ছায় অর্ধবার্ষিক মডেলে ফিরে যায়, তবে আন্তর্জাতিক পোর্টফোলিও ম্যানেজার বা বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা যাবে। তারা ভাববে, বাংলাদেশ বৈশ্বিক মানদণ্ডে পৌঁছানোর বদলে সুশাসনের নিয়ম শিথিল করছে। এতে তারা এ দেশের বাজারে পুঁজি বিনিয়োগে উৎসাহ হারাবে।

কোম্পানিগুলোর জন্য তিন মাসের হিসাব তৈরি করা যদি কঠিন মনে হয়, তবে প্রক্রিয়াটিকে ডিজিটাল ও সহজ করা উচিত। কিন্তু তথ্যের প্রবাহ বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল কাজ হলো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা, কোম্পানির করপোরেট ব্যবস্থাপনার কাজের চাপ কমানো নয়। বিএসইসি যদি সত্যিই একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে চায়, তবে ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন অবশ্যই বাধ্যতামূলক রাখতে হবে।

আহমদ ইকবাল হাসান, সাবেক চেয়ারম্যান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ

Scroll to Top