স্নিগ্ধার অভিযোগে সরব তারকারা, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি | চ্যানেল আই অনলাইন

স্নিগ্ধার অভিযোগে সরব তারকারা, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি | চ্যানেল আই অনলাইন

কোম্পানির ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ করার প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে মডেল ও অভিনেত্রী ইসরাত জাহান ওরফে স্নিগ্ধা চৌধুরীকে আটকে রেখে নির্যাতন, হত্যাচেষ্টা, জোরপূর্বক কাগজে স্বাক্ষর করানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে সরব হয়েছেন দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারা। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

রোববার রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় আশিয়ান গ্রুপ ও আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন স্নিগ্ধা চৌধুরী। পরদিন সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দেন। এরপর থেকেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

চলচ্চিত্র পরিচালক রায়হান রাফী, অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, নাজিফা তুষি, নুসরাত ফারিয়া, মডেল জেসিয়া ইসলাম, অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ, অভিনেতা রওনক হাসান এবং উপস্থাপিকা নীল হুরেরা জাহানসহ অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্নিগ্ধার প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বিচার দাবি করেছেন।

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বলেন, স্নিগ্ধা চৌধুরীর সঙ্গে যা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইন অনুযায়ী পুলিশকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষেরই সহিংসতা, ভয়ভীতি ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে কাজ ও বসবাসের অধিকার রয়েছে।

অভিনেত্রী নাজিফা তুষি বলেন, সহকর্মী স্নিগ্ধা চৌধুরীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন তিনি। তার প্রত্যাশা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচার নিশ্চিত হবে। তিনি আরও বলেন, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের প্রতি হেনস্তা ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া বলেন, নারী হিসেবে নিজেদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি ভাবতেই কষ্ট হয়। তিনি সব নারীকে সহিংসতা ও কুদৃষ্টির হাত থেকে নিরাপদ রাখার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা জানান।

মডেল জেসিয়া ইসলাম বলেন, স্নিগ্ধা কীভাবে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন, সেটি নয়; বরং মূল ঘটনার সত্য উদ্‌ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, স্নিগ্ধা চৌধুরীর সঙ্গে যা ঘটেছে, তার তদন্ত ও বিচার চান তিনি।

চলচ্চিত্র পরিচালক রায়হান রাফী বলেন, কোনো সমাজেই সহিংসতা ও হয়রানির স্থান নেই। স্নিগ্ধা চৌধুরীর উত্থাপিত অভিযোগগুলো সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদ্‌ঘাটিত হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

অভিনেতা রওনক হাসানও স্নিগ্ধার ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

উপস্থাপিকা নীল হুরেরা জাহান বলেন, বিষয়টি কোনোভাবেই হাসি-তামাশার নয়। অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, স্নিগ্ধা চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, তাকে ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ করার কথা বলে ডেকে নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন, হত্যাচেষ্টা, জোর করে কাগজে স্বাক্ষর করানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Scroll to Top