
ঢাকা, ২০ জুলাই – দুবাইয়ে আটক সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে দুবাই পুলিশ। তাকে হস্তান্তরের বিষয়ে তারা নীতিগতভাবে একমত হলেও আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়ার চারটি নির্দিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে।
ইন্টারপোলের মাধ্যমে পাঠানো এই চিঠির জবাব বর্তমানে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো প্রস্তুত করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দুবাই পুলিশের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এখন মূলত কোন আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে হস্তান্তর করা হবে সেটিই প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত পাঁচ দিন আগে দুবাই পুলিশের ওই চিঠিটি বাংলাদেশে পৌঁছেছে। বর্তমানে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এবং পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার সহযোগিতায় এই জবাব তৈরির কাজ করছে দুদক।
বেনজীর আহমেদের মামলার তদন্ত ও প্রত্যর্পণের নথিপত্র সমন্বয় করছেন দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম। তিনি জানান যে চিঠি পাওয়ার পর থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুতই জবাব পাঠানো সম্ভব হবে। এর আগে গত জুন মাসে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে আটক হয়েছেন।
বাংলাদেশ সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রত্যর্পণ চাইলে দুদক ১৪৪ পৃষ্ঠার একটি নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে সেখানে পাঠায়। তবে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি না থাকায় দুবাই কর্তৃপক্ষ কিছু আইনি ব্যাখ্যা চেয়েছে।
তারা মূলত জানতে চেয়েছে কোন আইনের আওতায় তাকে ফেরত নেওয়া হবে এবং আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি কী।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৪ মে তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করে। বর্তমানে তিনি দুবাইয়ের কারাগারে আটক রয়েছেন।
এস এম/ ২০ জুলাই ২০২৬






