আন্তর্জাতিক এআই অলিম্পিয়াডের দল নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াড-বিডিএআইও আয়োজন করা হয়। গত দুই বিডিএআইও শুধু ঢাকায় হয়েছিল। এবারের এডিশনে প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী মোট ছয়টি ভেন্যুতে আঞ্চলিক পর্বের আয়োজন করা হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে সরাসরি আঞ্চলিক ভেন্যুতে, রাজশাহী ও খুলনায় এবং এর বাইরের বাকি অঞ্চলগুলোয়ও অনলাইনে আঞ্চলিক বাছাইপর্ব আয়োজিত হয়। প্রতিযোগিতাগুলো চলে ২ থেকে ১০ মের মধ্যে। আঞ্চলিক পর্যায়ে কুইজ ও কোডিং রাউন্ড মিলিয়ে হাজারখানেক শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করে। ১৬ মে ঢাকায় আয়োজন করা হয় ফাইনাল রাউন্ড। সেখান থেকে নির্বাচিত সেরা ৩০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ২০ থেকে ২৩ মে হয় ন্যাশনাল ক্যাম্প। ক্যাম্পে সিলেকশন কনটেস্ট ও ভাইভার মধ্য দিয়ে জুনের এপিওএআইয়ের জন্য আটজনের দল নির্বাচিত হয়। বাংলাদেশ দলে সুযোগ পায় হোমনা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির লাবিব শাহরিয়ার, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির মো. সাইদুজ্জামান আরাফ, নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির ত্রিদিব রায় আর্য, দারুস সালাম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির নাওফিল রহমান, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিলের একাদশ শ্রেণির নাঈরা নাওয়ার আহমেদ, মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির অনন্য যারিফ আকন্দ, নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির মোবতাসিম চৌধুরী প্রিয়ম এবং ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের দশম শ্রেণির মুরতাযা আবদুল্লাহ। আমি ছিলাম এই অলিম্পিয়াডের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর।
এআই অলিম্পিয়াডে বেশ কয়েকটি বিষয় থেকে প্রশ্ন আসে। এর মধ্যে আছে ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং বা এনএলপি, ইমেজ প্রসেসিং, অডিও প্রসেসিং এবং ট্যাবুলার ডেটা প্রসেসিং। নাম শুনেই বিষয়গুলো কী বোঝা যায়। বর্তমানে আমরা চ্যাটজিপিটি বা ক্লডের মতো যেসব লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবহার করি কিংবা গুগল ট্রান্সলেটরে এক ভাষা থেকে আরেক ভাষায় অনুবাদ করি, তা এনএলপির উদাহরণ। তোমার মোবাইল ফোনে গুগল ফটোজ যে একই ধরনের ছবিগুলো একসঙ্গে সাজিয়ে দেয় বা ফেস লক যে তোমার মুখ চেনে, সেটি হয় ইমেজ প্রসেসিং দিয়ে। স্পটিফাইয়ের মতো গান শোনার অ্যাপগুলো অডিও প্রসেসিং করে তোমার পছন্দ অনুযায়ী গান খুঁজে দেয়। মেসি আগামী ম্যাচে কয়টি গোল দেবে, সেটা আগের খেলাগুলোর বিভিন্ন ডেটা ব্যবহার করে অনুমান করা যায় ট্যাবুলার ডেটা প্রসেসিং করে।
এবারের আঞ্চলিক পর্বে আসা একটি প্রশ্ন শুনে তোমার মজা লাগতে পারে। আগের রাতে কতক্ষণ ঘুমিয়েছে, ক্লাস কতটা ইন্টারেস্টিং হচ্ছে, আবহাওয়া কতটা গরম, অনেক শিক্ষার্থীর এ রকম বেশ কিছু ডেটা দিয়ে মেশিন লার্নিং মডেল বানিয়ে অনুমান করতে হবে, ক্লাসে একজন শিক্ষার্থী গড়ে কতবার হাই তুলবে!
অলিম্পিয়াডের সমস্যাগুলো পাইথন দিয়ে সমাধান করতে হয়। তোমাদের হাইস্কুলের আইসিটি টেক্সট বইয়েই পাইথন শেখানো হয়। পাইথনের মৌলিক বিষয়গুলো শেখার পরে শিখে নিতে হয় নাম্পাই, পান্ডাজ, ম্যাটপ্লটলিব, সাইকিটলার্ন ও পাইটর্চের মতো কিছু লাইব্রেরি। অনেক বড়সংখ্যক সংখ্যা নিয়ে কাজ করা, সুন্দর সুন্দর গ্রাফ তৈরি করা, মেশিন লার্নিং মডেল ও নিউরাল নেটওয়ার্ক বানানো—এ রকম অনেক মজার মজার কাজ করা যায় এই লাইব্রেরিগুলো দিয়ে। এখন শেখাও খুব সহজ। ইন্টারনেটে আর ইউটিউবে প্রচুর ফ্রি রিসোর্স পাওয়া যায়।


