ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্র – DesheBideshe

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্র – DesheBideshe


ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্র – DesheBideshe

ওয়াশিংটন, ১৯ জুলাই – ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে দুর্বল করা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা নস্যাৎ করা ছিল প্রধান লক্ষ্য।

তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই অভিযান আরও বিস্তৃত হয়ে ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলকে দেশের অভ্যন্তর থেকে বিচ্ছিন্ন করার দিকে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড ডেস রোশেস। এক সাক্ষাৎকারে ডেস রোশেস বলেন, যুদ্ধের প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে অকার্যকর করা যায়।

এর পাশাপাশি দেশটির একযোগে বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়াও ছিল অন্যতম লক্ষ্য। তিনি জানান, ওই হামলার প্রভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে। ইরান এখন আর আগের মতো বিশাল আকারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে পারছে না।

বর্তমানে দেশটি কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারলেও সেগুলোর বেশিরভাগই সফলভাবে ভূপাতিত করা সম্ভব হচ্ছে। পেন্টাগনের এই সাবেক কর্মকর্তার মতে, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে যে বিমান হামলা শুরু করেছে, তার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং অবকাঠামো।

বিশেষ করে চাবাহার অঞ্চলের নজরদারি টাওয়ারসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরান এসব স্থাপনায় বেসামরিক নৌ নেভিগেশন ব্যবস্থা ব্যবহার করে সমুদ্রে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও আক্রমণ পরিচালনা করছিল। ডেস রোশেসের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে মার্কিন সামরিক অভিযান নতুন মাত্রা পেয়েছে।

এখন হামলার লক্ষ্য ধীরে ধীরে ইরানের অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোর দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যাতে উপকূলীয় অঞ্চলকে দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়। এই কৌশলের উদ্দেশ্য হলো ইরান যেন মূল ভূখণ্ড থেকে উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্র, সৈন্য কিংবা ড্রোন পাঠিয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে না পারে।

অভিযানের পরবর্তী ধাপে ইরানের জাতীয় নেতৃত্ব, সামরিক স্থাপনা এবং সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহৃত অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। তবে তিনি সতর্ক করে আরও বলেন যে কেবল বিমান হামলার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক বা কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন।

বিমানশক্তি থেকে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া সবসময় সম্ভব হয় না। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই হামলার পরিধি বাড়িয়ে ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

এস এম/ ১৯ জুলাই ২০২৬



Scroll to Top