
তেহরান, ১৭ জুলাই – মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। বৃহস্পতিবার রাতভর চলা এই হামলায় ইরানের একটি বিমানবন্দর, একটি রেলওয়ে স্টেশন এবং দুটি সেতু বিধ্বস্ত হয়েছে বলে শুক্রবার সকালে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।
হরমোজগান প্রদেশে সেতু লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতিসহ হামলায় এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যু ও চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই নতুন দফায় হামলা চালানো হয়েছে।
এ নিয়ে টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানি ভূখণ্ডে বোমাবর্ষণ করল মার্কিন বাহিনী। অন্যদিকে ইরানের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র সমৃদ্ধ বুশেহর শহরেও দুটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ একে মার্কিন আগ্রাসনের ধারাবাহিকতা বলে অভিহিত করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে দেশটির অবকাঠামোতে আঘাত করা হলে পুরো অঞ্চলের মার্কিন মিত্রদের ওপর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এই হামলার পর আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর দাবি করেছে, আহভাজের একটি শিশু ক্যান্সার হাসপাতালের কাছে মার্কিন হামলার প্রতিবাদে তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। হামলার আশঙ্কায় হাসপাতালটি আগেই খালি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
এদিকে ইরানের পাল্টা হামলার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের মধ্যেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কুয়েত জানিয়েছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে কাজ করছে।
ইরানের শীর্ষ সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে তারা কোনো আপস করবেন না এবং মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এটি আবারও বন্ধ থাকবে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করার জন্য ইরানকে জবাবদিহি করতে হবে।
এস এম/ ১৭ জুলাই ২০২৬


