মুঠোফোনের ব্যালান্স দিয়ে কেনাকাটার সীমা বাড়ল

  • মানতে হবে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন।

  • স্মার্টফোন, সিমভিত্তিক মডেম ও রাউটার কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড নেই; এমনকি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও নেই। কিন্তু কিনতে চান কোনো পণ্য বা ডিজিটাল সেবা। সে ক্ষেত্রে হাতে থাকা মুঠোফোন হতে পারে সমাধান। মুঠোফোনে রিচার্জ করা ব্যালান্স (এয়ারটাইম) দিয়ে অনলাইনে কেনাকাটা করা যায়। সম্প্রতি এ লেনদেনের সীমা বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কিনতে পারবেন মুঠোফোন ব্যবহারকারীরা। আর এক বছরে এর সর্বোচ্চ সীমা ৫০ হাজার টাকা।

মুঠোফোনে রিচার্জ করা ব্যালান্স ব্যবহার করে অনলাইনে কেনাকাটার এ পদ্ধতির নাম ‘ডাইরেক্ট অপারেটর বিলিং’, সংক্ষেপে ডিওবি। সহজ ভাষায় বললে, আপনার মুঠোফোনের ব্যালান্সকে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মতো ব্যবহার করা যায়। যাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা কার্ড নেই, তাঁদের জন্য এটি একটি সহজ বিকল্প।

মুঠোফোন অপারেটরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিওবি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন, গেমিং, সংগীত, সরকারি সেবা, ধর্মীয় ও লাইফস্টাইলভিত্তিক সেবাসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা কিনতে পারছেন। সম্প্রতি স্মার্টফোন ও সিমভিত্তিক মডেম ও রাউটার ডিওবির মাধ্যমে এককালীন বা কিস্তিতে কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের গ্রাহকেরা ডিওবির মাধ্যমে জিপির নিজস্ব ডিজিটাল সেবাসহ, শিখো, সুখী, নেটফ্লিক্স, চরকি, আইস্ক্রিন, দীপ্ত প্লে, র‍্যাবিটহোল, স্বাধীন মিউজিক, চর্চা, ইবাদাহ, দীন ও ক্লাউড স্টোরেজ সেবা নিচ্ছেন। এ ছাড়া প্রত্যয়ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সেবার ফি পরিশোধের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।

একটি অপারেটরকে অনুমোদন

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য বলছে, দেশে ২০১৮ সালে ডিওবি সেবা প্রথম চালু হয়। তখন মাসে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা এবং বছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত কেনাকাটা করতে পারতেন ডিওবি ব্যবহারকারীরা। ২০২৪ সালে মোবাইল অপারেটররা এ সীমা বাড়াতে বিটিআরসির কাছে আবেদন করে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও বিটিআরসির যৌথ পর্যালোচনার পর ধাপে ধাপে এ সীমা বাড়ানো হয়।

গত জুলাইয়ে মুঠোফোন অপারেটরদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ডিওবির মাধ্যমে মাসিক কেনাকাটার সীমা ৫ হাজার টাকা এবং বার্ষিক সীমা ৫০ হাজার টাকা করেছে। নতুন এ সীমা শর্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য কার্যকর করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বিটিআরসির কাছ থেকে এ–সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়েছে শুধু গ্রামীণফোন।

বিটিআরসির নথি অনুযায়ী, গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে গত মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ–সংক্রান্ত একটি চিঠি বিটিআরসিতে পাঠানো হয়। এর মাধ্যমে ডিওবি সেবার মাসিক ও বার্ষিক লেনদেনসীমা বাড়ানোর অনুমোদন চাওয়া হয়।

জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা তানভীর মোহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, ডিওবির লেনদেনের সীমা বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রাহকেরা তাঁদের মুঠোফোনের ব্যালান্স ব্যবহার করে আরও সহজে বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা কিনতে পারবেন।

বিটিআরসির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের আরও তিন অপারেটর—রবি, বাংলালিংক ও টেলিটকের গ্রাহকদের জন্য ডিওবির একই সীমা চালুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন এ তিন অপারেটরকে একই সুবিধার জন্য বিটিআরসিতে আবেদন করতে হবে। তাদের ক্ষেত্রেও একই শর্তে সীমা বাড়ানো হবে।

শর্ত সাপেক্ষে লেনদেন

মুঠোফোন অপারেটরদের কয়েকটি শর্ত মানতে হবে। শর্তগুলোর মধ্যে আছে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন মেনে চলা; শুধু মুঠোফোনে ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল পণ্য কিংবা সেবার কেনাবেচা করা, ডিজিটাল পণ্য বা সেবা নির্বাচনের ক্ষেত্রে মুঠোফোন অপারেটরদের নিজস্ব পণ্য বা সার্ভিস (যেমন ডেটা) কতটুকু ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটা বিবেচনায় নেওয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাপ ও ভার্চ্যুয়াল কারেন্সি কেনাবেচা না করা।

এ ছাড়া ডিওবির আওতায় স্থানীয় কিংবা বৈদেশিক মুদ্রায় জুয়া, ক্যাসিনো, লটারি, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল অ্যাসেট কেনাবেচা, ফরেক্স বা শেয়ারবাজারে ট্রেডিং, মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

Scroll to Top