নব্বইয়ের দশকের অত্যন্ত জনপ্রিয় বাংলা ব্যান্ড চন্দ্রবিন্দু-এর কালজয়ী ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’ গানটির সুরটাই যেন আজ মূর্ত হয়ে উঠল ফুটবল মাঠে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থা থেকে কীভাবে রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়াতে হয়, তা আরও একবার বিশ্বকে বুঝিয়ে দিল আর্জেন্টিনা। মিশরের রক্ষণব্যূহ চূর্ণ করে, খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আলবিসেলেস্তেরা তুলে নিল এক অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চকর জয়। এই জয় চ্যাম্পিয়নদের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের।
ম্যাচের শুরুতে আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দেয় মিশর। আফ্রিকার দেশটির গতি ও নিখুঁত কাউন্টার অ্যাটাকের সামনে কোণঠাসা হয়ে পড়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ। ১৪ মিনিটে গোল হজম করে বসে আর্জেন্টিনা। কর্নারে পাওয়া ক্রস থেকে বল পেয়ে হেডে আর্জেন্টিনা জালে বল পাঠান ইয়াসির ইব্রাহিম।
৩১ মিনিটে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। মিশরের ডিফেন্ডার হাইসেম হাসানের ফাউল করলে পেনাল্টি পায় গতআসরের চ্যাম্পিয়নরা। স্পট কিক নিতে আসেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে ডান দিকের নিচু কোণে নেয়া তার শট অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবির। দুর্দান্ত সেই সেভে মিশরের লিড অক্ষুন্ন থাকে। এরপরও একাধিক সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর প্রথমার্ধে পিছিয়ে বিরতিতে যায় আলবিসেলেস্তেরা।
বিরতির পর ম্যাচের ৫৮ মিনিটে দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাকে আর্জেন্টিনা জালে বল পাঠান মিশর ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো। তবে আক্রমণের শুরুর দিকে ফাউল হওয়ার কারণে ভিএআর দেখে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। এই যাত্রায় রক্ষা পায় লিওনেল স্কালোনির দল।
তবে ব্যবধান দিগুণ করতে বেশি সময় নেয়নি মিশর। ৬৭ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে গোলটি আদায় করে নেন সেই জিকো। ২-০তে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দেশটি। আর তাতেই যেন স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারিতে থাকা হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থক। মনে হয়েছিল যেন, বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলছেন লিওনেল মেসি। আলবিসেলেস্তেদের চোখে-মুখে যেন স্পষ্ট হারের শঙ্কা।
যে আর্জেন্টিনার প্রথমে গোল হজম করার পর ক্যামব্যাকের ইতিহাস খুবই নগন্য, সেখানে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর কামব্যাকের স্বপ্নটা যেন ছিল আষাঢ়ে গল্পের মত। তবে রূপকথার গল্প বাকি ছিল তখনও, আর্জেন্টিনা প্রমাণ করল কেন তারা চ্যাম্পিয়ন। ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে জিতে মাঠ ছাড়া যায় সেটা হয়তো লিওনেল মেসি ছিলেন বলেই সম্ভব হয়েছে।
৭৯ মিনিটে মেসির বাড়ানো ক্রস থেকে বল পেয়ে মিশর জালে বল পাঠান ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। তাতে ব্যবধান কমায় আলবিসেলেস্তেরা। আর ৫ মিনিট পর স্তব্ধ হয়ে থাকা আলবিসেলেস্তেদের মাঝে প্রাণের সঞ্চার করেন মেসি। গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান।
ঠিক যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছে, তখনই ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে আসে জয়সূচক সেই জাদুকরী গোল। এবার গল্পটা লিখলেন এনজো ফের্নান্দেজ। লৌতারো মার্টিনেজের ক্রস থেকে বল পেয়ে হেডে গোল করে প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য রচনা করেন।
বল জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম। হারের মুখ থেকে যেভাবে ম্যাচ ছিনিয়ে আনলেন লিওনেল মেসিরা, তাতে বলা যায়- আসলেই, চ্যাম্পিয়নরা এভাবেই ফিরে আসে।


