বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে আগামী আগস্ট থেকে দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেক প্লাসের সাতটি সদস্য দেশ।
সোমবার (৬ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
রোববার অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে বৈশ্বিক তেলবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস পর্যালোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উৎপাদন বাড়ানো দেশগুলো হলো সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমান।
এটি টানা পাঁচ মাসে ওপেক প্লাসের ঘোষিত পঞ্চম উৎপাদন বৃদ্ধি। এর মাধ্যমে ২০২৩ সালে নেওয়া উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল ও নভেম্বরে বৈশ্বিক আর্থিক অস্থিরতা এবং একের পর এক ব্যাংক ধসের প্রভাবে তেলের বাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপ সৃষ্টি হলে ওপেক প্লাস উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
ওপেক প্লাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলো বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনে উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, স্থগিত বা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে পূর্ণ নমনীয়তা বজায় রাখবে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আগামী ২ আগস্ট আবারও বৈঠকে বসবে জোটটি।
এদিকে ইরান-সংকটের অবসান এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও কমতে শুরু করেছে। সোমবার সেপ্টেম্বরে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার, যা গত ২৭ ফেব্রুয়ারির যুদ্ধ-পূর্ববর্তী ৭২ দশমিক ৪৮ ডলারের চেয়েও কম।
জাহাজ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই হরমুজ প্রণালী দিয়ে ৪৮টি এবং ২ জুলাই ৩৮টি জাহাজ চলাচল করেছে। যদিও সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ এ পথ ব্যবহার করত।
ওপেকের পরিসংখ্যান বলছে, মে মাসে ওপেক প্লাসের মোট তেল উৎপাদন কমে দৈনিক ৩৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে আসে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৪২ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ব্যারেল।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইজি’র বাজার বিশ্লেষক ফ্যাবিয়েন ইয়েপ বলেন, বাস্তবে সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় ওপেক প্লাসের সর্বশেষ উৎপাদন বৃদ্ধি অনেকটাই “কাগজে-কলমের আনুষ্ঠানিকতা”। তার মতে, হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের বাধা কমে যাওয়ায় সৌদি আরব ও ইরানের রপ্তানি বেড়েছে। একই সময়ে চীনের চাহিদা কমেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বল্পমেয়াদে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরে আসাও সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।



