চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩৬ শতাংশই অংশ নিচ্ছেন না। এছাড়া পরীক্ষার ফরম পূরণ করার পরও প্রথম দিন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন শিক্ষা বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিলেন ১৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৩২ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফরম পূরণ করেন ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৩ জন। ফলে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেননি।
সবচেয়ে বেশি ঝরে পড়ার চিত্র দেখা গেছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে। সেখানে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধিত ছিলেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪২ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু পরীক্ষার ফরম পূরণ করেন মাত্র ৭৫ হাজার ১৯৭ জন। অর্থাৎ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশই পরীক্ষার বাইরে থেকে গেছেন।
এদিকে, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন ফরম পূরণ করেও ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন, যা শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের নতুন করে উদ্বেগে ফেলেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, করোনাকালে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তৈরি হওয়া শিখন ঘাটতি, শিক্ষাঙ্গনের অস্থিরতা এবং অভিভাবকদের নজরদারি কমে যাওয়ার প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে সামনে আসছে। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষার বাইরে চলে যাওয়ার বিষয়টি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা। তিনি মনে করেন, সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে বড় পরিসরে শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে শিক্ষা খাতে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাকালে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তৈরি হওয়া শিখন ঘাটতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাব, শিক্ষাঙ্গনের অস্থিরতা এবং সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি অভিভাবকদের কমে যাওয়া নজরদারির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।



