নকআউটে আফ্রিকার ঝড়, ১০ দলের মধ্যে ৯টিই উঠল শেষ বত্রিশে

নকআউটে আফ্রিকার ঝড়, ১০ দলের মধ্যে ৯টিই উঠল শেষ বত্রিশে

নাটকীয়তা, উত্তেজনা ও নানা সমীকরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব। ৪৮ দলের এই আসরে প্রাথমিক পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে ১৬টি দল। অন্যদিকে ১২টি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপসহ মোট ২৪টি দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল জায়গা করে নিয়েছে রাউন্ড অব ৩২-এ।

নকআউটে আফ্রিকার ঝড়, ১০ দলের মধ্যে ৯টিই উঠল শেষ বত্রিশে

এবারের নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই হবে সরাসরি বাছাইয়ের লড়াই। নির্ধারিত সময়ে ফল না এলে ম্যাচ গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে, প্রয়োজনে নিষ্পত্তি হবে টাইব্রেকারে। কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এই উত্তেজনাপূর্ণ পর্ব।

বিশ্বকাপের এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে আফ্রিকান দেশগুলোর সাফল্য। আফ্রিকা মহাদেশ থেকে ১০টি দল মূল পর্বে অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে নয়টি দলই নকআউট পর্বে পৌঁছে নতুন এক নজির স্থাপন করেছে। শেষ বত্রিশে জায়গা পাওয়া দেশগুলো হলো মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, ঘানা, কেপ ভার্দে, মিসর, ডিআর কঙ্গো এবং আলজেরিয়া।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত সংখ্যক আফ্রিকান দলের একসঙ্গে নকআউট পর্বে ওঠার ঘটনা আগে দেখা যায়নি। অতীতে কয়েকটি আফ্রিকান দেশ একাধিকবার নকআউট পর্বে খেললেও এবারের সাফল্য মহাদেশটির ফুটবল অগ্রগতির নতুন প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মরক্কো প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছিল। এবারও দলটি নিজেদের শক্তিমত্তার পরিচয় দিচ্ছে। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ড্র করে তারা আবারও নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে।

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই কেপ ভার্দে সবার নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। অভিষেক আসরেই তারা নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে বড় চমক উপহার দিয়েছে। একইভাবে ডিআর কঙ্গোর শেষ বত্রিশে ওঠাও এবারের আসরের অন্যতম বিস্ময়কর ঘটনা। নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

আলজেরিয়ার নকআউট নিশ্চিত করার গল্পটিও ছিল রোমাঞ্চে ভরপুর। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে রিয়াদ মাহরেজের গুরুত্বপূর্ণ গোলে জয় নিশ্চিত করে দলটি। সেই জয়ই তাদের পরবর্তী পর্বে খেলার পথ সুগম করে।

ডিআর কঙ্গোর তারকা ফুটবলার ইয়োয়ানে উইসা দলের এই সাফল্যকে দীর্ঘ সংগ্রামের ফল বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ৫২ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তাদের দল এমন অর্জন করেছে, যা দেশের ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেবে।

উইসার ভাষায়, চার বছর আগে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। নানা বাধা, হতাশা ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই তারা এই পর্যায়ে পৌঁছেছেন। তিনি মনে করেন, কঠিন পরিস্থিতিতে মানসিক দৃঢ়তাই দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকান দেশগুলোর সাফল্য প্রমাণ করেছে যে মহাদেশটির ফুটবল দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিভা ও আত্মবিশ্বাস ভবিষ্যতে আফ্রিকান ফুটবলকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।

Scroll to Top