বুদ্বুদের পর
২০০৫ সালে ফেডের জ্যাকসন হোল সম্মেলনে দুই শীর্ষ অর্থনীতিবিদ তাঁকে সম্ভবত সর্বকালের সেরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকার হিসেবে অভিহিত করেন।
কিন্তু তাঁর মেয়াদের শেষ চার বছরে গড়ে ওঠা আবাসনমূল্যের বুদ্বুদ ফেটে যাওয়ার পর তাঁর উজ্জ্বল সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার অভিঘাত পড়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।
পরবর্তীকালে ফেড তাঁর উত্তরসূরিদের নেতৃত্বে নতুন পথে হাঁটে। শূন্য সুদের হার, আর্থিক সংকট মোকাবিলার নতুন নীতি, স্বচ্ছ যোগাযোগব্যবস্থা, নির্দিষ্ট মূল্যস্ফীতি লক্ষ্য এবং নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনের মতো নানা উদ্যোগ চালু করা হয়।
গ্রিনস্প্যান ছিলেন আর্থিক বাজারে সীমিত নিয়ন্ত্রণের একজন শক্তিশালী সমর্থক। সমালোচকদের মতে, ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ আবাসন বিনিয়োগের বিষয়ে তাঁর উদাসীন মনোভাবও সংকটকে ত্বরান্বিত করেছিল।
পরে গ্রিনস্প্যান স্বীকার করেন, তিনি বিস্মিত হয়েছেন যে ব্যাংকারদের নিজস্ব স্বার্থ তাঁদের এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেনি, যা শেষ পর্যন্ত তাঁদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানকেই বিপদের মুখে ফেলেছে।
২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভসের এক কমিটির সামনে গ্রিনস্প্যান বলেন, ‘আমিসহ যারা মনে করতাম ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব স্বার্থ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করবে, আমরা গভীর বিস্ময় ও অবিশ্বাসের মধ্যে আছি।’
কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করেন, নিজেকে রিপাবলিকান হিসেবে পরিচয় দিতে দ্বিধা না করা গ্রিনস্প্যান ২০০১ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের কর কমানোর পরিকল্পনাকে সমর্থন করে তাঁর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার ভাবমূর্তিকে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছিলেন। যদিও তিনি ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।



