ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক পরিত্যক্ত মাদ্রাসায় ১১ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে গফরগাঁও থানায় বাদি হয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির মা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগী শিশু একই উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ৫ম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে।
অভিযুক্তের নাম আল আমিন (৩৭)। সে-ও একই গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মেয়েটি বাড়ি থেকে প্রতিদিন সকালে মাদ্রাসায় যায় এবং মাদ্রাসায় পড়া শেষে বাড়িতে ফিরে আসে। গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটায় মেয়েটি তার মাদ্রাসায় পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির কাছে স্থানীয় আল আমিনের মনোহারী দোকানে একশত টাকা ভাংতি নেওয়া জন্য যায়। পরবর্তীতে আল আমিন মেয়েকে মজা বিস্কুট দেওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে পরিত্যক্ত এবতেদায়ি টিনসেড মাদ্রাসা ঘরের ভিতর নিয়ে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা গেছে, এই ঘটনার বিষয়ে কাউকে না বলার জন্য শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ছাড়ার হুমকি দিয়ে শিশুটিকে আল আমিন নিজের কাছে আসতে বলে এবং বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে মেয়েটিকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে ডাকে।
সর্বশেষ গতকাল রোববার (১৮ জুন) দুপুর দেড়টায় মেয়েটি মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে আল আমিন পুনরায় মেয়েটিকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে টানাহেঁচড়া করলে মেয়েটি ডাক-চিৎকার দিয়ে দৌঁড়ে বাড়িতে চলে আসে। মেয়ে বাড়িতে এসে ঘটনার বিষয়ে তার মাকে বিস্তারিত জানায়।
বক্তব্য জানতে চাইলে ভুক্তভোগী শিশুটির মা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। শিশু মেয়েটির সঙ্গে এমন করবে ভাবতেও পারিনি। মানুষরূপী এই জানোয়ারের ফাঁসি দাবি করছি।
মেয়েটির ভাই বলেন, একজন মানুষ কোনো শিশুর সঙ্গে এমন জঘন্য আচরণ করতে পারে না। আমার বোনটি সবসময় কান্নাকাটি করছে। এই নরপশুর উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।
এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হবে। একইসঙ্গে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হবে।



