বিশ্বকাপে কুরাসাওকে ‘সেভেন আপ’ খাইয়ে বরণ জার্মানির

বিশ্বকাপে কুরাসাওকে ‘সেভেন আপ’ খাইয়ে বরণ জার্মানির

কুরাসাওকে তাই অন্তত জার্মানদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। হিউস্টন স্টেডিয়ামে কয়েক হাজার ‘ব্লু ওয়েভ’ সমর্থক এবং দলটির বাইরে দক্ষিণ ক্যারিবিয়ান সাগরের এক চিলতে ভুখন্ডে এক লাখের কিছু বেশি কুরাসাওবাসীরাও এই ম্যাচকে মনে রাখবেন জনম জনম!

মাত্র ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার একটি দেশ। বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়াটাই যেখানে তাঁদের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উৎসব, সেখানে একটা গোল কী করতে পারে! সেটাও যদি হয় চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির জালে! কাই হাভার্টজদের সাত গোলও যেটা করতে পারেনি, কুরাসাওয়ের লিভানো কোমেনেনসিয়া সেটা করতে পেরেছেন মাত্র এক গোলেই। তেমন কিছু না আসলে, আজ থেকে ১০০ বছর পরও যখন কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপে খেলার প্রসঙ্গে উঠবে, গল্প হবে প্রথম গোলটি করেছেন কে—তখন কোমেননসিয়ার নামটা উচ্চারিত হবে। অমরত্ব আর কি!

অনেকের মতেই, হিউস্টনের এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম ‘মিস–ম্যাচ’—অর্থাৎ দুই দলের শক্তির ব্যবধানে বড় বেশি অসমতা। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে নবম জার্মানির সঙ্গে ৭২ ধাপের ব্যবধানে পিছিয়ে কুরাসাও—যেটা ২০১০ বিশ্বকাপে উত্তর কোরিয়া–আইভরিকোস্ট ম্যাচের পর সবচেয়ে বড় ব্যবধান। এমন ম্যাচে জার্মানি কী করতে পারে, সেটা তো ২০০২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জালে তাঁদের ৮ গোলেই পরিস্কার। ইউলিয়ান নাগলসমানের দলটিও কুরাসাওকে ৭–১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে একটি বার্তা দিয়েছে, যেটা পঞ্চম গোলের পর থেকেই বলছিলেন ধারাভাষ্যকার, ‘জার্মানি নিজেদের ফিরে পেয়েছে!’

খবরটা বিশ্বকাপে বাকি দলগুলোকে খুশি করবে না, তা নিশ্চিত।

Scroll to Top