তারা প্রকাশ্যে খুন করে, প্রচারণা চালায়, দোয়া চায় ফেসবুকে

তারা প্রকাশ্যে খুন করে, প্রচারণা চালায়, দোয়া চায় ফেসবুকে

খুন বাড়ছে, মুখ খুলতেও ভয় মানুষের

গত পাঁচ বছরের পুলিশের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, খুলনায় খুনের ঘটনা বেড়েছে। খুলনা মহানগর পুলিশের হিসাবে, ২০২১ সালে মহানগরে খুন হয় ১৫টি। ২০২২ সালে ১৯টি, ২০২৩ সালে ১৭টি। এরপর ২০২৪ সালে সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়ায় ২৯। ২০২৫ সালে হয় ৩৪। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে—এই পাঁচ মাসেই খুন হয়েছে ১৬টি।

মহানগরের বাইরেও একই চিত্র। খুলনা জেলায় ২০২১ সালে খুনের মামলা হয় ৩০টি, ২০২২ সালে ২২টি, ২০২৩ সালে ২১টি, ২০২৪ সালে ৩১টি, ২০২৫ সালে ৪৯টি এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে ২০টি।

১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পরও খুনোখুনি থামেনি। ফেব্রুয়ারিতে খুলনা শহরে খুন হয়েছে ৪টি, মার্চে ৪টি, এপ্রিলে ২টি ও মে মাসে ৫টি। এর বাইরে হত্যাচেষ্টার ঘটনাও আছে। গত ২১ মে বটিয়াঘাটা উপজেলার পুঁটিমারী বাজারে জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকে গুলি করা হয়। এতে যুবদলের দুই কর্মী আহত হন।

খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ‘ভঙ্গুর’ উল্লেখ করে মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম (মনা) প্রথম আলোকে বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নেই। প্রকাশ্যে মানুষকে খুন করা হচ্ছে। যেকোনো সময় যেকোনো ব্যক্তির ওপর হামলা হচ্ছে, গুলির ঘটনা ঘটছে, চাঁদাবাজি হচ্ছে। এগুলো অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার।

বিএনপির নেতা বলেন, খুলনায় কিশোর গ্যাং ও মাদকের সিন্ডিকেট তৎপর হয়ে উঠেছে। বিষয়টি তাঁরা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বারবার বলেছেন। কিন্তু পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না।

Scroll to Top