২০২৭ সালে চালকহীন গাড়ি
বিওয়াইডির উদ্ভাবনী ক্ষমতা এখন কল্পবিজ্ঞানকেও হার মানাচ্ছে। সিএনএন ও ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বিওয়াইডির প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড ‘ইয়াংওয়াং ইউ-এইট’ মডেলের গাড়িটি জরুরি অবস্থায় পানির ওপর নৌকার মতো ভাসতে পারে এবং অনায়াসে পাড়ি দিতে পারে জলাশয়।
শুধু তা-ই নয়, এই গাড়িটি কোনো বাড়তি জায়গা না নিয়ে স্রেফ এক জায়গায় দাঁড়িয়েই ট্যাংকের মতো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যেতে সক্ষম। এটিকে বলা হয় ‘ট্যাংক টার্ন’ প্রযুক্তি।
এমনকি জেমস বন্ডের সিনেমার মতো এই গাড়ির ছাদে রয়েছে ড্রোন স্টেশন। গাড়ি চলাকালে ড্রোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়ে গিয়ে সামনের রাস্তার জ্যাম বা পরিবেশের ভিডিও সরাসরি চালকের ড্যাশবোর্ডে পৌঁছে দেয়।
বিওয়াইডির ‘ইউ-নাইন’ মডেলের সুপারকার আরও একধাপ এগিয়ে। এটি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে লাফ দিতে পারে এবং এমনকি একটি চাকা না থাকলেও ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে পারে।
চীনের এই গাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনের এই দৌড় সড়ক ছাড়িয়ে আকাশেও বিস্তৃত। রয়টার্স জানায়, হেলিকপ্টারের মতো সরাসরি উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম ‘ফ্লাইং ট্যাক্সি’ বা উড়ন্ত গাড়ি নিয়ে কাজ করছে বিওয়াইডির সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো।
তবে বিওয়াইডির আসল লক্ষ্য আরও অনেক দূরে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যেই পুরোপুরি চালকবিহীন গাড়ি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে ছাড়তে কারিগরিভাবে প্রস্তুত তারা। এখন কেবল চীন সরকারের আইনি অনুমোদনের অপেক্ষা।
বিওয়াইডির নতুন ‘জুয়ানজি’ স্মার্ট আর্কিটেকচার প্রতিটি গাড়িকে মূলত একেকটি শক্তিশালী রোবটে পরিণত করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩০ সালের বৈশ্বিক পরিবহন বিপ্লবের মূল কারিগর হবে চীনের এই সাশ্রয়ী উচ্চপ্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আভিজাত্যের গণ্ডি থেকে বের করে সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসতে পারা বিওয়াইডির সবচেয়ে বড় শক্তি।
সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, সিএনএন, ব্লুমবার্গ



