২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের বাকি ১৪ দিন, অথচ সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। শুরুতে ফিফার নির্ধারিত উচ্চমূল্যের কারণে দেশে এবারের বিশ্বকাপ সম্প্রচার সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছিল শঙ্কা। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই অনিশ্চয়তার মেঘ কিছুটা কাটার ইঙ্গিত। সম্প্রচার প্রক্রিয়ায় ভারতও একই পরিস্থিতিতে পড়েছে।
বাংলাদেশের মিডিয়া স্বত্ব পাওয়া সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক সম্প্রতি ফিফার সাথে চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোপাল পাডিয়া বলেছেন, বাংলাদেশে স্বত্ব বিক্রি করতে না পারায় তারা চুক্তির অধিকার ছেড়ে দিয়েছেন।
চলতি বছরের মার্চে প্রায় ৭২ লাখ ১১ হাজার মার্কিন ডলারের, অর্থাৎ প্রায় ৮৮ কোটি টাকার একটি চুক্তি হয়েছিল ফিফা ও প্রতিষ্ঠানটির। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একাধিক কিস্তির অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ফিফা চুক্তিটি বাতিল করে দেয় স্প্রিংবকের সাথে।
এরপর থেকে বাংলাদেশে সম্প্রচারের বাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে টি-স্পোর্টস ও স্টার নিউজের যৌথ উদ্যোগ এবং দুবাইভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান সরাসরি ফিফা থেকে সম্প্রচার স্বত্ব কেনার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ফিফা বাংলাদেশের জন্য তাদের চাওয়া মূল্য কমাতে রাজি হয়েছে এবং এখন চুক্তি চূড়ান্ত করার আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম থাকার বিষয়টি তুলে ধরে বিনামূল্যে সম্প্রচার স্বত্ব চাওয়া হয়েছিল। ফিফা সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, সম্প্রচার স্বত্ব থেকে পাওয়া আয়ের একটি বড় অংশ স্থানীয় ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। তাই বিনামূল্যে স্বত্ব দেয়া সম্ভব নয়।
একই সময়ে ভারতেও প্রায় একই ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছে। সেখানে ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে ফিফা ও রিলায়েন্স-ডিজনি যৌথ উদ্যোগের মধ্যে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে। ফিফা শুরুতে ভারতীয় বাজারের জন্য ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপের স্বত্ব বাবদ প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার দাবি করেছিল। পরে মূল্য কমিয়ে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলারে নামলেও রিলায়েন্স-ডিজনি জোটের প্রস্তাব ছিল মাত্র ২০ মিলিয়ন ডলারের।
ভারতের আরেক বড় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান সনি ফিফার সঙ্গে আলোচনা করেছিল, শেষপর্যন্ত তারা কোন প্রস্তাব দেয়নি। এরমধ্যেই প্রতিবেশি দেশটির জি এন্টারটেইনমেন্ট ফিফার সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসেছে বলে জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন ক্রীড়া চ্যানেল পোর্টফোলিও ‘ইউনিট ৮ স্পোর্টস’ চালুর অংশ হিসেবে বিষয়টি প্রকাশ করেছে।
বিশ্বকাপ সম্প্রচারে ভারত ও বাংলাদেশের এই অনিশ্চয়তা এশিয়ার বড় বাজারগুলোতে ফিফার বাণিজ্যিক কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। কারণ, সাউথ এশিয়ায় বিপুল দর্শক থাকা সত্ত্বেও উচ্চমূল্যের কারণে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলো স্বত্ব কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছে।
শেষপর্যন্ত ফিফা অবস্থানে কিছুটা নমনীয় হয়েছে বলে খবর। সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চায়না মিডিয়া গ্রুপের সঙ্গে ২০২৬ ও ২০৩০ ছেলেদের বিশ্বকাপ এবং ২০২৭ ও ২০৩১ নারী বিশ্বকাপের সম্প্রচার চুক্তি চূড়ান্ত করেছে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা। একইভাবে ভারত ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।
তাতে কিছুটা আশার আলো জাগছে সম্প্রচার নিয়ে। সিঙ্গাপুরের স্প্রিংবক যে হারে উচ্চমূল্য চাইছিল, এবং অনমনীয় ছিল, সেই প্রতিবন্ধকতা কেটে গেছে। বিপরীতে বাংলাদেশ ও ভারত এখন সরাসরি ফিফা থেকে সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে একই পথে যে চেষ্টাটা চালাচ্ছে, তাতে ফিফার গ্লোবাল নীতির আওতায় সম্প্রচারে তুলনামূলক মূল্যহ্রাসের সম্ভাবনা থাকার কারণে ঘরে বসে দেশীয় চ্যানেলেই বিশ্বকাপ দেখার আশাটাও বাড়ছে।




