
গাজা, ১৮ মে – গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে হাজার হাজার মানুষের নিথর দেহ। প্রিয়জনদের মরদেহ কোথায় আছে তা জানা সত্ত্বেও শুধু প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে সেগুলো বের করা সম্ভব হচ্ছে না। স্বজনরা মাসের পর মাস ধ্বংসস্তূপের চারপাশে ঘুরে তাদের স্মৃতি হাতড়ে বেড়াচ্ছেন।
লিনা আল জাওরা নামে ২৩ বছর বয়সি এক তরুণী জানান,
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক হামলায় তিনি তার পরিবারের ২৮ জন সদস্যকে হারিয়েছেন। হামলার সময় অসুস্থতার কারণে বাড়ির বাইরে থাকায় তিনি বেঁচে যান। খবর শোনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও দীর্ঘ সময় ধরে তিনি স্বজনদের মরদেহ দাফন করতে পারেননি।
লিনা প্রায়ই ধ্বংসস্তূপের পাশে যান এবং তার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের কবর জিয়ারত করার আকুতি জানান। জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক যৌথ মূল্যায়ন অনুযায়ী, গাজায় বর্তমানে প্রায় ৬ কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন ধ্বংসস্তূপ জমে আছে।
এই বিশাল পরিমাণ আবর্জনা সরাতে প্রায় ৭ বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছে জাতিসংঘ। গাজা সিভিল ডিফেন্সের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৮ হাজার মরদেহ আটকে থাকতে পারে। এই ধ্বংসস্তূপ অপসারণে প্রায় ১৭০ কোটি ডলারের প্রয়োজন হতে পারে।
ইউএনডিপি প্রধান আলেকজান্ডার ডি ক্রু জানিয়েছেন,
গাজার ৯০ শতাংশ মানুষ এখন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় বসবাস করছে। সেখানে স্কুল ও হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
উদ্ধারকারী দলগুলো জানিয়েছে,
যন্ত্রপাতির সংকটের কারণে গাজা সিটির ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে মরদেহ উদ্ধার অভিযান প্রায় বন্ধ রয়েছে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক রায়েদ আল দাহশান অভিযোগ করেন যে, ইসরায়েল গাজায় প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
৭৬ বছর বয়সি গাজার বাসিন্দা হামদি মালাকা জানান,
গত নভেম্বরে জেইতুন এলাকায় হামলায় তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হন, যাদের দাফন এখনো সম্ভব হয়নি। জ্বালানি ও যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকর্মীরা এখন অনেক ক্ষেত্রে হাত দিয়েই কংক্রিট সরানোর চেষ্টা করছেন।
এস এম/ ১৮ মে ২০২৬





