মানিক রায়: ঝালকাঠিতে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ খামারগুলোতে ব্যস্ততা বেড়েছে। সুষম খাবার দিয়ে যত্নসহকারে পশু লালন-পালন করে কোরবানির উপযোগী করে তুলছেন খামারিরা। এবছর স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই জেলার কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরজুড়ে লালন-পালন করা গবাদিপশু মূলত কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই বিক্রি হয়ে থাকে। ঈদ সামনে রেখে প্রতিদিন পশুগুলোকে ঘাস, খড় ও দানাদার সুষম খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। অনেক খামারে ইতোমধ্যে আগাম বিক্রির কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
খামারিরা জানান, এবছর পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ফলে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। পাশাপাশি কোরবানির হাটে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা। জেলার খামারগুলোতে দেশি, অস্ট্রেলিয়ান, হলস্টিনসহ বিভিন্ন জাতের গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। তবে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অনেক খামারি লোকসানের ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ।
ঝালকাঠিতে এবছর কোরবানির পশুর মোট চাহিদা ৩০ হাজার ২৩৪টি। এর বিপরীতে জেলায় প্রায় দেড় হাজার খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে ৩০ হাজার ৫৮৮টি গবাদিপশু। ফলে স্থানীয় উৎপাদন দিয়েই চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে খামারিদের প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পশু লালন-পালনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে খামারিদের অভিযোগ, পশুখাদ্যের দাম ও উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। ভারতীয় গরু অবৈধভাবে প্রবেশ করলে দেশীয় খামারিরা আরও ক্ষতির মুখে পড়বেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। খরচ বাড়লেও কোরবানির ঈদকে ঘিরে ভালো দামের আশায় তারা পশু প্রস্তুত করছেন। তবে বাজারে ন্যায্য মূল্য না পেলে লোকসানের ঝুঁকি থেকে যাবে বলে জানান তারা।
এই বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নীরোধ বরণ জয়ধর বলেন, এবছর জেলায় কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই। স্থানীয় উৎপাদন দিয়েই চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। খামারিদের আমরা বৈজ্ঞানিক ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পশু লালন-পালনের পরামর্শ দিচ্ছি।





