নবম পে-স্কেলে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা সমন্বয়

নবম পে-স্কেলে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা সমন্বয়

নবম পে-স্কেলে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা সমন্বয়আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি, বিচার বিভাগ এবং বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা আগামী ১ জুলাই থেকে বাড়তি বেতন পেতে যাচ্ছেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জমা দেওয়া নবম পে-কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।

দেশের একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে জানা গেছে, সরকার গঠিত পর্যালোচনা কমিটি মূল সুপারিশে বেশ কিছু কাটছাঁট করে তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেসিক বেতনের ৫০ শতাংশ পাবেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। আর ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে নতুন পে-স্কেলের আওতায় বিভিন্ন ভাতা ও অতিরিক্ত সুবিধা যুক্ত করা হবে।

পে-কমিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো একবারে বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতো। কিন্তু বর্তমানে কার্যকর ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করায় ব্যয় কমে ৩৭ হাজার কোটিতে নেমে এসেছে। এ কারণেই বাজেটে এই পরিমাণ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের মূল প্রতিবেদনে বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুপারিশ থাকলেও সচিব কমিটি তা অনেকাংশে সীমিত করেছে। বিশেষ করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কুক, মালি ও গাড়ি সুবিধাসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত ভাতা বড় পরিসরে বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়নি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বর্তমান ভাতা কাঠামো বহাল রাখার পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, জাকির খান কমিশন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজনীয়তা দেখালেও সংশোধিত প্রতিবেদনে তা কমিয়ে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

সর্বশেষ প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে নিম্ন স্তরের কর্মচারীদের বেতন ১৪২ শতাংশের বেশি এবং উচ্চ স্তরের বেতন ১০৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এছাড়া বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ, টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা, প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে মাসিক বিশেষ ভাতা এবং পেনশনভোগীদের জন্য ৫৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রায় ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগী বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পেতে যাচ্ছেন। যদিও পুরো সুবিধা ধাপে ধাপে কার্যকর হবে, তবুও এটি বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামোয় অন্যতম বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জুম বাংলা নিউজ

জুম বাংলা নিউজ

inews.zoombangla.com

অনুসরণ করুন

গুগলে iNews Zoombangla অনুসরণ করুন

আপনার Google নিউজ ফিডে iNews Zoombangla থেকে আরও আপডেট পেতে Google ফলো পৃষ্ঠাটি খুলুন এবং চেকমার্ক বিকল্পে ট্যাপ করুন।


গুগলে iNews Zoombangla অনুসরণ করুন

Scroll to Top