
ইসলামাবাদ, ১৫ মে – পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া আবারও কেঁপে উঠল ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায়। আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা বাজাউর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চালানো এই নৃশংস হামলায় অন্তত আটজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। দেশটির নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইতিমধ্যেই এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) মেহের নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাজাউর জেলায় সেনাসদস্যদের একটি সমাবেত ভিড়কে লক্ষ্য করে হামলাকারী আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়। সেনাসদস্যরা যখন একটি নির্দিষ্ট স্থানে জমায়েত হয়েছিলেন, ঠিক তখনই ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে হামলাকারী। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, ঘটনাস্থলেই আটজন সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়।
বাজাউর জেলাটি দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের উপজাতীয় সীমান্ত এলাকা হিসেবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে টিটিপি-সহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর নিরাপদ আস্তানা হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অঞ্চলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ওপর হামলার মাত্রা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
হামলার পরপরই এক বিবৃতিতে টিটিপি জানায়, এটি তাদের পূর্বপরিকল্পিত একটি আক্রমণ ছিল। তবে এই ঘটনার পর পাকিস্তান সরকার বা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ওই এলাকায় জঙ্গিবিরোধী কোনো বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও ইসলামাবাদ এখন পর্যন্ত নীরব রয়েছে।
গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় টিটিপি-র তৎপরতা নতুন করে শক্তিশালী হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি।
এনএন/ ১৫ মে ২০২৬






