
ফরিদপুর, ২১ এপ্রিল – ফরিদপুরের মধুখালীতে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালনে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ২০ এপ্রিল এই অকুতোভয় যোদ্ধার মৃত্যুবার্ষিকী থাকলেও দিনটি পালনে কোনো পূর্ব প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যায়নি। বিকেলে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কামারখালীর সালামতপুর গ্রামে বীর শ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগারে তড়িঘড়ি করে একটি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
প্রশাসনের এমন দায়সারা পদক্ষেপে বীরশ্রেষ্ঠের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ১৯৪৩ সালের ৮ মে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার সালামতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সংসারের অভাব দূর করতে ১৯৬৩ সালে তিনি তৎকালীন ইপিআরে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল রাঙ্গামাটির মহালছড়ি নৌপথে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ সমরে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে তিনি শহীদ হন।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। সাধারণত প্রতিবছর এই দিনে সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিকেলে যথাযোগ্য মর্যাদায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তবে এবার বীরশ্রেষ্ঠের পরিবার ও জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই অনেকটা অবহেলার মধ্য দিয়ে দিনটি পার করা হয়েছে।
জাদুঘরের সহকারী লাইব্রেরিয়ান সাইদুর রহমান জানান যে সকাল থেকে প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা না আসায় তারা নিজেরাই পতাকা উত্তোলন করেন। পরে দুপুরের দিকে ইউপি চেয়ারম্যানের ফোনে তারা তড়িঘড়ি করে মাহফিলের সংবাদ পান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহান উপস্থিত ছিলেন।
কামারখালী ইউপি চেয়ারম্যান চৌধুরী রাকিব হোসেন ইরান দিবসটি ভুলে যাওয়ার কথা স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান যে তাকে আগে থেকে কেউ অবহিত করেনি এবং ভবিষ্যতে সকল জাতীয় দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বীরশ্রেষ্ঠের বড় বোন জোহরা বেগম উপস্থিত থাকলেও ক্ষোভে কোনো বক্তব্য দেননি।
এনএন/ ২১ এপ্রিল ২০২৬






