পশ্চিমবঙ্গ কেন ভারতের অন্য রাজ্যগুলো থেকে আলাদা, নির্বাচন নিয়ে নানা কথা | চ্যানেল আই অনলাইন

পশ্চিমবঙ্গ কেন ভারতের অন্য রাজ্যগুলো থেকে আলাদা, নির্বাচন নিয়ে নানা কথা | চ্যানেল আই অনলাইন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিধানসভা নির্বাচন। ইতোমধ্যেই আসাম, কেরালা ও পন্ডিচেরিতে বিধানসভা ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুতেও নির্বাচন হবে আগামী ২৩ এপ্রিল। তবে নির্বাচনের এই ভরা মৌসুমে সব কিছুকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) ও ভোটার তালিকাকে কেন্দ্র করে তৈরি বিতর্ক, অন্যদিকে সহিংসতার আশঙ্কা- সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা রীতিমতো তুঙ্গে।

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের যুগান্তকারী সম্ভাবনার প্রেক্ষাপট কতটা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে মতভেদ আছে। ব্যক্তিবিশেষে এই প্রশ্নের ভিন্ন ভিন্ন উত্তর মিলছে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া বাকি সবকটি রাজ্যে ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে (ইউনিয়ন টেরিটরি) নির্বাচন হয়েছে একদিনে। কিন্তু বাংলায় ভোট হবে দুই দফায়।

তবে ভারতের অন্য রাজ্যগুলোর তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন আলাদা হওয়ার পেছনে এটিই একমাত্র কারণ নয়। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও সমাজের কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। এছাড়া বিশ্লেষণ বলছে, অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে এ রাজ্যের ভোট অন্য রাজ্যগুলোর চেয়ে আলাদা হয়ে উঠেছে।

প্রথমত, নির্বাচনী সহিংসতার দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ এগিয়ে। নির্বাচনী পর্বে রাজনৈতিক সহিংসতায় হতাহতের ঘটনা গোটা দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি।

দ্বিতীয় কারণ হলো স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন- এসআইআর। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর ইস্যুতে যে পরিমাণ বিতর্ক, বিরোধ, মামলা, বিক্ষোভ হয়েছে তা নজিরবিহীন। তাই ভোটার তালিকায় নাম থাকা না-থাকাটা অনেকের কাছে অধিকার ও আবেগের প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এবার দিল্লি পর্যন্ত সরব হয়েছেন, এমনকি সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যে তিনি বিজেপির সবচেয়ে শক্ত প্রতিপক্ষ। সেই সাথে জাতীয় রাজনীতিতেও তৃণমূল কংগ্রেস গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী শক্তি। টানা চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে নামায় তার উপস্থিতিই এবারের ভোটে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। রাজ্য রাজনীতিতে তার প্রভাব এতটাই শক্ত যে, বহু চেষ্টা করেও বিজেপি তার বিকল্প মুখ দাঁড় করাতে পারেনি।

এদিকে বিজেপির রাজনৈতিক অভিযান এ রাজ্যে এসে বারবার হোঁচট খেয়েছে। বিজেপি তাদের এই ‘লাস্ট ফ্রন্টিয়ার’ শেষ পর্যন্ত দখল করতে পারবে কি-না, সে প্রশ্নই ২০২৬ এর পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনকে ঘিরে আলাদা কৌতূহল তৈরি করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ইতিহাস বলছে, সেখানকার মানুষ একটি দলকে সরানোর আগে বারবার সুযোগ দিয়ে থাকে। তাই তৃণমূল কংগ্রেসের শাসন ১৫ বছরেই শেষ হবে, নাকি আরও ৫ বছরের জন্য ক্ষমতায় আসবে সে প্রশ্নও এবারের নির্বাচনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

Scroll to Top