২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে পার্বতীপুর রেলস্টেশন চত্বরে আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সের এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন মারুফ। তাঁর পা দুটিতে ছিল দগদগে ঘা। পথচারীরা নাকে–মুখে রুমাল চেপে পাশ দিয়ে যাওয়া-আসা করছেন। মারুফ সেই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক শর্ত জুড়ে দেন, ক্ষতস্থান মারুফকেই পরিষ্কার করতে হবে। মারুফ চিকিৎসকের পরামর্শে হাতে গ্লাভস পরে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করেন। ওই হাসপাতালেই মারুফ একাধারে ১০ দিন থেকে তাঁকে কিছুটা সুস্থ করে তোলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লোকটিকে বাঁচানো যায়নি।
ওই ঘটনা মারুফকে ব্যাপক নাড়া দেয়। সিদ্ধান্ত নেন, পথে–ঘাটে পড়ে থাকা অসুস্থ ও অপ্রকৃতিস্থ মানুষকে সুস্থ ও স্বাভাবিক করে তোলাই হবে তাঁর মূল কাজ। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। ওই বছরের মে মাসে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের হাসিনানগর নামাপাড়া গ্রামে বসতবাড়ি করার জন্য কেনা জমিতে টিনের চালা তৈরি করেন। পথে-ঘাটে পড়ে থাকা অসুস্থ, অপ্রকৃতিস্থ, অসহায় মানুষকে উদ্ধার করে সেখানে এনে রাখেন। নাম দেন ‘গ্লোরি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা।’ ঠিকানাহীন অসহায় মানুষকে এনে শুরু করেন মানবসেবা।



