তবে কি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন ট্রাম্প? | চ্যানেল আই অনলাইন

তবে কি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন ট্রাম্প? | চ্যানেল আই অনলাইন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মনোনীত করার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটিকে চিঠি লিখেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সেই চিঠিতে তিনি ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন কি না- তা নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

বুধবার (৯ জুলাই) জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকারী মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এর আগেও মনোনীত করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নোবেল কমিটির কাছে লেখা নেতানিয়াহুর চিঠিতে ট্রাম্পের প্রশংসা করে বলেন, বিশ্বজুড়ে শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য দৃঢ় এবং ব্যতিক্রমী নিষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন ট্রাম্প।

এর আগে পাকিস্তান জুন মাসে বলেছিল, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে সহায়তা করার জন্য ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কারের জন্য সুপারিশ করবে।

প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ট্রাম্পকে মনোনয়ন নিয়ে কিছু মহলে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে, যার মধ্যে সুইডিশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ডটও রয়েছেন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বলেন, মূলত নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে তোষামোদ করতে চাইছেন।

ট্রাম্প যদি পুরস্কার জিতেন, তাহলে তিনি থিওডোর রুজভেল্ট, উড্রো উইলসন, জিমি কার্টার এবং বারাক ওবামার পরে পঞ্চম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হবেন, যিনি এই পুরস্কার পেয়েছেন।

পুরস্কার কে দেবে, কবে দেবে?
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি প্রতি বছর শান্তি পুরস্কারের বিজয়ী নির্ধারণ করে। চলতি বছর ২৪৪ ব্যক্তি ও ৯৪ সংস্থাসহ মোট ৩৩৮টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। ২০২৫ সালের বিজয়ী ঘোষণা হবে আগামী ১০ অক্টোবর এবং পুরস্কার প্রদান হবে ১০ ডিসেম্বর।

নোবেল পুরস্কার কীভাবে কাজ করে তা এখানে এক নজরে দেওয়া হল:
যোগ্যতা
আলফ্রেড নোবেলের উইল মতে, পুরস্কার তাদেরই দিতে হবে, যারা আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্ক, সেনাবাহিনীর সংকোচন বা অবলোপন ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ও সেরাটা মানবজাতিকে উপহার দেবে। এই পুরস্কারের জন্য যেকোন জীবিত ব্যক্তি বা সক্রিয় প্রতিষ্ঠান যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

নোবেল ওয়েবসাইটের ভূমিকায়, শান্তি পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান জর্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস বলেন, বাস্তবে যে কেউ নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রাপক হতে পারেন। পুরস্কারের ইতিহাস স্পষ্টভাবে দেখায় যে এটি সারা বিশ্ব থেকে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে দেওয়া হয়।

প্রতি বছর অক্টোবরে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয় কিন্তু মনোনয়ন আগের জানুয়ারিতে শেষ হয়। যার অর্থ নেতানিয়াহুর ট্রাম্পের মনোনয়ন এই বছর বিবেচনা করা যায়নি।

মনোনয়ন
যে কেউ এর জন্য নাম প্রস্তাব করতে পারেন: সরকার এবং সংসদ সদস্য; বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান; ইতিহাস, সমাজ বিজ্ঞান, আইন এবং দর্শনের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক; এবং সাবেক নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী, যে কারও। তবে আপনি নিজেকে মনোনীত করতে পারবেন না।

মনোনীতদের তালিকা ৫০ বছর ধরে গোপন রাখা হয়, যদিও মনোনয়নকারীদের তাদের পছন্দ প্রকাশ করা থেকে বিরত রাখার কোনও উপায় নেই।

বিজয়ী যেভাবে সিদ্ধান্ত হয়
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি, যা নরওয়েজিয়ান সংসদ কর্তৃক নিযুক্ত পাঁচজন ব্যক্তি নিয়ে গঠিত, বিচারক। সদস্যরা প্রায়ই অবসরপ্রাপ্ত রাজনীতিবিদ হন, তবে সবসময়ই নয়। বর্তমান কমিটির নেতৃত্বে আছেন পিইএন ইন্টারন্যাশনালের নরওয়েজিয়ান শাখার প্রধান, যা মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করে।

নরওয়েজিয়ান রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সকলকে উপস্থাপন করে এবং তাদের নিয়োগ নরওয়ের সংসদে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিফলিত করে। কমিটির প্রথম সভা প্রতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয়, যখন কমিটির সদস্যরা তালিকায় যোগ করার জন্য তাদের নিজস্ব মনোনয়ন দিতে পারেন।

গত বছর ২৮৬ জন মনোনীত ছিলেন এবং ২০২৫ সালে পুরস্কারের জন্য ৩৩৮ জন প্রার্থী মনোনীত হন। যার মধ্যে- ২৪৪ জন ব্যক্তি এবং ৯৪টি সংস্থা।

কমিটি প্রথমে সুপারিশপ্রাপ্ত তালিকা থেকে একটি ছোট তালিকা প্রস্তুত করেন। এরপর সেই ছোট তালিকা থেকে মনোনীতদের প্রত্যেককে একটি স্থায়ী উপদেষ্টা এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল দ্বারা মূল্যায়ন করা হয়।

কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্য রাখে কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। প্রায়শই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পুরস্কার ঘোষণার কয়েক দিন আগে নেওয়া হয়।

একটি বিতর্ক
আলফ্রেড ডিনামাইটসহ বেশ কিছু জীবনধ্বংসকারী বিস্ফোরক আবিষ্কার করেন। ফলে লোকেরা তাকে সেই সময় খুব একটা ভালো চোখে দেখত না।

এমনকি ১৮৮৮ সালের ১২ এপ্রিল যখন তার বড় ভাই লুডভিগ বেড়াতে গিয়ে ফ্রান্সের কান শহরে মারা যান তখন ফরাসি দৈনিক ‘লা ফিগারো’ প্রতিবেদনে লেখে, ‘মৃত্যুর সওদাগর গতকাল কানে মারা গেছেন।

তিনি হচ্ছেন নোবেল, ডিনামাইটের উদ্ভাবক।’ সেই খবরে এও বলা হয় কিভাবে লোকেদের দ্রুত সময় হত্যা করা যায়, সেই পদ্ধতি আবিষ্কার করে নোবেল ধনকুবের হয়েছেন।

অনেকের ধারণা এই নেতিবাচক সংবাদটি নোবেলকে খুব নাড়া দেয় এবং এর প্রতিক্রিয়াতেই তিনি মানুষের কল্যাণে কিছু করতে আগ্রহী হন। ফলে, তিনি তার সব সম্পদ একটি ট্রাস্টের অধীন রেখে সেটা থেকে মানবকল্যাণে যারা অবদান রাখবেন তাদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়ে যান।

বিজয়ীদের কী দেওয়া হয়
প্রত্যেক বিজয়ীকে একটি পদক দেওয়া হয়। ১৯৮০ সালের আগ পর্যন্ত নোবেল বিজয়ীরা যে পদক পেতেন, সেটা ছিল ২৩ ক্যারেট স্বর্ণের।

এরপর থেকে ১৮ ক্যারেট সবুজ স্বর্ণের ধাতবের ওপর ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া পদক দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া একটি সনদ ও মোটা অঙ্কের অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়।

এই অর্থের পরিমাণ এক কোটি সুইডিশ ক্রোনার বা ১১ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় অঙ্কটা প্রায় আট কোটি টাকা।

পুরস্কারের অর্থমূল্য
এ বছর থেকে পুরস্কারের অর্থমূল্য ৮৯ হাজার মার্কিন ডলার বাড়িয়ে ৯ লাখ ৮৯ হাজার ডলার করা হয়েছে (১১ লাখ ক্রোনা)।

সর্বশেষ এক দশকে বেশ কয়েকবার নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য বাড়ানো বা কমানো হয়েছে। ২০১২ সালে পুরস্কারের অর্থমূল্য কমানো হয়। তবে দশকটির শেষদিকে আবার অর্থমূল্য বাড়ানো হয়।

একি বিবৃতিতে নোবেল ফাউন্ডেশন জানায়, আর্থিক অবস্থান অনেক ভালো হওয়ায় পুরস্কারের অর্থমূল্য বাড়ানো হয়েছে। ২০২২ সালের শেষনাগাদ পর্যন্ত ফাউন্ডেশনের বিনিয়োগ করা মূলধনের বাজারমূল্য পাঁচ দশমিক ৭৯৯ বিলিয়ন ক্রোনায় পৌঁছেছে।

Scroll to Top