হাবিবুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। নিজেই নিজেকে ‘কাউন্সেলিং’ করেছেন। বন্ধু, সহপাঠী, শিক্ষকেরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ভর্তির ক্ষেত্রে জরিমানার দুই লাখ টাকার মধ্যে এক লাখ টাকা তিনি নিজে দিয়েছেন। বাকি এক লাখ বন্ধু, শিক্ষকসহ অন্যরা দিয়েছিলেন। সবার সহযোগিতা ছিল বলেই তিনি সব বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে এমবিবিএস পাস করতে পেরেছেন।
হাবিবুল্লাহ এখন ইন্টার্নশিপের অপেক্ষায়। এরপর তিনি সাইকিয়াট্রি বা মনোরোগ বিদ্যায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে চান বলে জানালেন। তিনি বলেন, মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। এই আগ্রহ থেকে তিনি আগে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত একটি পত্রিকার সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
হাবিবুল্লাহ বিয়ে করেছিলেন। ২০০২ সালে কিডনি জটিলতায় তাঁর স্ত্রী মারা যান। হাবিবুল্লাহ বলেন, তিনি জীবনে খুব বেশি কিছু চান না। পেটে-ভাতে মাস পার হলেই তিনি খুশি।
৫১ বছর বয়সে হাবিবুল্লাহর এমবিবিএস পাস করার ক্ষেত্রে তাঁর ইচ্ছাশক্তিকে বড় বিষয় মনে করেন অধ্যাপক আবদুল হানিফ। তিনি বলেন, হাবিবুল্লাহর ইচ্ছাশক্তি তো ছিলই, পাশাপাশি অন্যরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। তাই তাঁর পক্ষে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।
অধ্যাপক আবদুল হানিফ বলেন, মেডিকেল কলেজে দেশের সেরা শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হয়। কিন্তু ভর্তির পর পড়াশোনাকালে বিভিন্ন কারণে কিছু শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়ে। এমন শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষকের দিক থেকে একটু বেশি যত্ন দরকার। এ জন্য শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে মেন্টরশিপ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা দরকার।