
নয়াদিল্লি, ১৩ মে – ভারতের আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি আর রুপির রেকর্ড পতন ঠেকাতে এবার ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালাল নরেন্দ্র মোদি সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তাপ এবার সরাসরি গিয়ে লাগল ভারতীয়দের শখের গয়নার বাক্সে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাঁচাতে এবং ডলারের বিপরীতে রুপির মান ধরে রাখতে সোনা ও রুপার আমদানি শুল্ক এক লাফে ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপনে এই বড় ঘোষণা আসে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের অর্থনীতিতে:
- রুপির পতন: যুদ্ধের প্রভাবে গত এক বছর ধরে ডলারের তুলনায় ভারতীয় রুপির মান ক্রমাগত কমছে।
- রিজার্ভে টান: সোনা আমদানির মূল্য পরিশোধ করতে হয় ডলারে। যত বেশি সোনা ভারত কেনে, ততই বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার খালি হয়। ভারতের আমদানির তালিকায় তেলের পরেই সোনার অবস্থান।
- তেল সংকট: হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ায় জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক হিসেবে ভারত এখন তীব্র ডলার সংকটে।
পরিস্থিতি কতটা গম্ভীর তা বোঝা যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক আহ্বানে। তিনি স্পষ্ট দেশবাসীকে জানিয়েছেন, অন্তত আগামী এক বছর যেন কেউ সোনা না কেনেন। শুধু সোনা নয়, গত রোববার তিনি পেট্রোল ও ডিজেল ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্যও জনসাধারণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
ভারতে বিয়ে বা ধর্মীয় উৎসবে সোনা কেনা কেবল বিলাসিতা নয়, এটি একটি সামাজিক রীতি। কিন্তু দেশের লেনদেনের ভারসাম্য ঠিক রাখতে সরকার এখন এই আবেগের জায়গাতেই কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করল।
শুল্ক ১৫ শতাংশে পৌঁছানোর ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে সোনা ও রুপার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে বৈধ পথে সোনা আমদানি কমলেও চোরাচালান বাড়ার একটি ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। তবে সরকারের মূল লক্ষ্য হলো—আমদানি ব্যয় কমিয়ে ডলার সাশ্রয় করা এবং রিজার্ভের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
এনএন/ ১৩ মে ২০২৬






