গবেষকেরা যা বলছেন
হিমসাগর আমকে অনেক অঞ্চলের মানুষ ক্ষীরশাপাতি আম নামে চেনেন।
বারির সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সরফ উদ্দিন বলেছেন, ‘রাজশাহীতে যেটা ক্ষীরশাপাতি, সেটাই বাকি দেশে হিমসাগর। আম একটাই।’
রিসার্চগেটে ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রেও লেখা হয়েছে, ‘ক্ষীরশাপাতি, অলসো নোন অ্যাজ হিমসাগর।’ গবেষকেরা দুটোকে একই আমের দুটি নাম হিসেবে দেখছেন।
তবে উইকিপিডিয়া অন্য কথা বলছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, দুটো আলাদা জাত। পাকলে ক্ষীরশাপাতির ওপরের অংশ হলুদ হয়, হিমসাগর পেকেও সবুজাভ থাকে। আকারেও সামান্য ফারাক। ক্ষীরশাপাতি একটু বড়, বোঁটার কাছে চওড়া। মিষ্টতার দিক থেকেও ক্ষীরশাপাতি এগিয়ে বলে দাবি উইকিপিডিয়ার। বারির তথ্য অনুযায়ী, ক্ষীরশাপাতির টিএসএস বা মিষ্টতার মাত্রা শতকরা প্রায় ২২ থেকে ২৩ শতাংশ, যা বেশির ভাগ আমের চেয়ে বেশি। কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষায় এখনো কিছু নিশ্চিত হয়নি।
বাজারে দুই রকম কথা
মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের আম বিক্রেতা আবদুল কুদ্দুস বললেন, ‘দুইটা একই আম। স্বাদ একই। রাজশাহীতে বা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ক্ষীরশা বলে, আর ঢাকায়, সাতক্ষীরায় বলে হিমসাগর।’
সেখানকারই আরেক আম বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেন, ‘পার্থক্য আছে। দুটা আম আলাদা। চাঁপাইয়েরটা ক্ষীরশাপাতি। হিমসাগর মেহেরপুর, সাতক্ষীরায় বেশি হয়। আমার এগুলা সাতক্ষীরার হিমসাগর। রাজশাহীর আম আনি নাই এখনো।’
এই দ্বিমত শুধু বাজারে না। অনেক সময় একই জেলার দুই চাষিও আলাদা কথা বলেন। কেউ বলেন গাছ একই, কেউ বলেন আলাদা গাছ থেকে আলাদা আম আসে।



