মাঠের আইপিএল সব সময়ই আলোচনায় থাকে, এবারও আছে। তবে এ বছরের আইপিএলে মাঠের বাইরের নেতিবাচক আলোচনাও কম নয়। ডাগআউটে ফোন ব্যবহার, ড্রেসিংরুমে ভ্যাপিংয়ের মতো শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হানি ট্র্যাপ নিয়ে নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে ভারতীয় বোর্ড বিসিসিআই।
বৃহস্পতিবার রাতে আইপিএলের ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পাঠানো বোর্ডের নির্দেশিকায় দলগুলোকে পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেলিং বা নারীঘটিত ফাঁদ নিয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিসিসিআইসচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার পাঠানো ৮ পাতার এই নির্দেশিকায় বলা হয়, খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের ব্যক্তিগত জীবনের সামান্য অসতর্কতা শুধু লিগের ভাবমূর্তিই নয়, বরং তাঁদেরও বড় ধরনের আইনি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
হিন্দুস্তান টাইমস ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে পাঠানো বিসিসিআইয়ের নির্দেশিকার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়, ‘দেখা গেছে কিছু খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফ সদস্য সংশ্লিষ্ট আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি টিম ম্যানেজারকে জানানো বা তাঁর অনুমোদন ছাড়াই অননুমোদিত ব্যক্তিদের তাদের হোটেলের রুমে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছেন। এই প্রথা অবিলম্বে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হলো।’
খেলোয়াড়দের হোটেলের রুমে অননুমোদিত ব্যক্তিদের পরিদর্শন নিয়ে কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে আছে:
অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নিষেধ: কোনো বন্ধু, আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তি টিম ম্যানেজারের লিখিত অনুমতি ছাড়া খেলোয়াড়ের হোটেল রুমে প্রবেশ করতে পারবেন না।
লবিতে সাক্ষাৎ: কোনো দর্শনার্থী এলে তাঁদের হোটেলের লবি বা পাবলিক এরিয়াতে সাক্ষাৎ করতে হবে। কোনোভাবেই তাঁদের ব্যক্তিগত কক্ষে নিয়ে যাওয়া যাবে না।
বিসিসিআই হানি ট্র্যাপের প্রসঙ্গ টেনে দলগুলোর উদ্দেশে লিখেছে, ‘বিসিসিআই সব ফ্র্যাঞ্চাইজিকে হাই–প্রোফাইল স্পোর্টিং পরিবেশে বিদ্যমান সুপরিকল্পিত আপস (কম্প্রোমাইজ) এবং হানি ট্র্যাপিংয়ের ঝুঁকির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। যৌন অসদাচরণ–সংক্রান্ত প্রচলিত ভারতীয় আইনসহ গুরুতর আইনি অভিযোগের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে সব সময় এই ধরনের ঝুঁকি প্রশমনে সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে হবে।’
অনুমতিহীন গতিবিধিতে নিষেধাজ্ঞা
খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফদের টিম হোটেল ছাড়ার ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। অনেক সময় গভীর রাতে কাউকে না জানিয়ে বাইরে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এখন থেকে সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার বা টিম ইন্টেগ্রিটি অফিসারের কাছ থেকে ছাড়পত্র না নিয়ে কেউ হোটেলের বাইরে পা রাখতে পারবেন না। প্রতিটি মুভমেন্টের জন্য আলাদা লগবুক মেইনটেইন করা হবে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের জন্যও বিধিনিষেধ
ম্যাচের সময় ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের অতি-উৎসাহী আচরণও নিয়ন্ত্রণ করতে বলেছে বিসিসিআই। ডাগআউট বা ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বা আলিঙ্গনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মালিকদের বলা হয়েছে, নিয়ম ভেঙে খেলোয়াড়দের কাছে যাওয়া বা আলিঙ্গন করা প্রোটোকলের পরিপন্থী এবং এটি গেম ডায়নামিক্সে হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ভ্যাপিং ও নিষিদ্ধ দ্রব্য বর্জন
ড্রেসিংরুমে বা টুর্নামেন্টের যেকোনো ভেন্যুতে ভ্যাপ বা ই-সিগারেট ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এটি শুধু আইপিএলের নিয়ম লঙ্ঘন নয়, ভারতীয় আইন অনুযায়ীও একটি আমলযোগ্য অপরাধ। হোটেল রুম বা ড্রেসিংরুমে এই ধরনের কোনো পদার্থ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্দেশনা লঙ্ঘনের ফল
বিসিসিআই জানিয়েছে, এই নির্দেশিকা প্রতিটি খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফকে পড়ে শোনাতে হবে এবং তাঁদের থেকে লিখিত সম্মতি নিতে হবে। কোনো প্রকার নিয়ম লঙ্ঘন হলে বোর্ড বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানা, চলমান বা পরবর্তী আসর থেকে খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের বাদ এবং ক্ষেত্রবিশেষ আইনি জটিলতা বা অপরাধের ক্ষেত্রে সরাসরি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করতে পারে।
বিসিসিআইসচিব দেবজিৎ সাইকিয়া উল্লেখ করেছেন, লিগের স্বার্থে এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলবে ভারতীয় বোর্ড।



