নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মুমিনুল হকের ব্যাটে ভর করে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেটে ৩০১ রান তুলেছে বাংলাদেশ। চাপে পড়েও দ্রুতই ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেয় শান্ত-মুমিনুল জুটি। চালকের আসনে থেকেই দিনের খেলা শেষ করেছে স্বাগতিকরা। শুরুর বিপর্যয় কাটাতে শান্তর পাল্টা আক্রমণেই বাংলাদেশ এগিয়ে আছে বলে মনে করছেন মুমিনুল।
৩১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। পরে শান্ত-মুমিনুল ১৭০ রানের জুটি গড়েন। ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। মুমিনুল আউট হন ৯১ রান করে। দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসেন মুমিনুল। সেখানে অধিনায়কের ব্যাটিং প্রসঙ্গে প্রশ্নে এমন জানান তিনি।
‘সব মিলিয়ে চিন্তা করলে আমার কাছে মনে হয় প্রথম থেকে এই উইকেটে নতুন বলে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। আপনারা নিজেরাও দেখছেন দুই দিক দিয়ে বল মুভ করছে, সিম করছে। আমাদের দুই ওপেনার ভালো বলে আউট হয়েছে। ওই জায়গাটা ওরা ততক্ষণ খেলেছে ওটাতে আমরা অনেকটা এগিয়ে গিয়েছি। তারপরে শান্ত যেভাবে পাল্টা আক্রমণ করেছে, ওটাতে ওরা (পাকিস্তান) অনেক পিছিয়ে গেছে। এরকম উইকেটে যখন কেউ এসে পাল্টা আক্রমণ করে তখন, বোলাররা ঘাবড়ে যায়। এটার পুরো কৃতিত্ব শান্তকে দিতে হবে। আর শেষে মুশফিক ভাইও ভালো ব্যাটিং করেছে।’
শান্তর সঙ্গে জুটি কতটা উপভোগ করেছেন, জানতে চাইলে মুমিনুল সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির অ্যাড হক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
বলেছেন, ‘আমি যখন প্রথম টেস্ট খেলা শুরু করি বাংলাদেশ দলের হয়ে, তখন নন স্ট্রাইকে আমি ব্যাটিং বেশি উপভোগ করতাম- তামিম ভাই যখন ব্যাটিং করতো। নিউজিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া অনেক খারাপ কন্ডিশনেও উনি ভালো ব্যাটিং করতো। আমার কাছে মনে হয় শান্তর ইনিংসটি আমার চোখে দেখা ওর অন্যতম সেরা। ও যেভাবে প্রথম থেকে আধিপত্য বিস্তার করেছে, ওটা আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে।’
শান্ত ১৩০ বলে ১২ চার ও দুই ছক্কায় ১০১ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলার সময় ক্রিজের বাইরে দাঁড়াচ্ছিলেন। অনেকবার তাকে সামনে এগিয়ে ড্রাইভ করতেও দেখা যায়। এমন করার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন মুমিনুল।
বলেছেন, ‘ও দারুণ ফর্মে আছে। আপনি যদি শেষ কয়েকটা ইনিংস দেখেন শ্রীলঙ্কার সাথে, আয়ারল্যান্ডের সাথে, নিউজিল্যান্ডের সাথে একশ মারলো। অনেক চাপে থাকার পরেও সে একশ মেরেছে। আজও অনেক কঠিন কন্ডিশনে একশ মারলো। ওর জীবনে সবচেয়ে ভালো ফর্মে আছে। আর হেঁটে আসছিল এটা ওর মানসিকতা বা পরিকল্পনা ছিল আব্বাসের বিপক্ষে। ওকে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেললে কঠিন হয়, কারণ দুই দিক দিয়ে বল মুভ করে। তাই পেয়ে বসতে না দেয়ার জন্য ওই পরিকল্পনাটা নিয়েছে।’
ফিফটি পাওয়ার পর শান্তর সেটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তরিত করার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ। ১৪টি হাফ সেঞ্চুরি পাওয়া ইনিংসের মধ্যে ৯টাতেই পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা। বাংলাদেশে এটা সচরাচর দেখা যায় না।
মুমিনুল বলেন, ‘এটা ভালো। কারণ একটা লেভেল পর্যন্ত কাউকে তো নিয়ে যেতে হবে। ওকে দেখে হয়তো ভবিষ্যতে অন্য কেউ উন্নতি করবে। ওর চাহিদা এবং ক্ষুধা আছে টিমের জন্য করার এবং বিশ্বসেরা হওয়ার। এই ইচ্ছাগুলো থাকলে এবং প্রয়োগ ঠিকমত হলে এগুলো হয়।’
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষের জন্য একসময় তামিম ইকবাল ছিলেন বাংলাদেশের যোগ্য ওপেনার। সময়ের পালাক্রমে এখন সেই স্থান নিতে পারেন টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা তানজিদ হাসান তামিম। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ধরণ তার মাঝেও বিদ্যমান। তবে মুমিনুল সব ব্যাটারের পাল্টা আক্রমণের পক্ষে মত দেননি।
মুমিনুল বলেছেন, ‘আমার মনে হয় সবাই যদি এভাবে পাল্টা আক্রমণ করতে চায় তাহলে হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে। যার যেদিন সময় আসবে… শান্তর আজকে খুব ভালো লেগেছে। পরের ইনিংসে নাও লাগতে পারে। যার যেদিন হবে তার ওইভাবেই শেষ করা উচিৎ। সবাই যদি আগ্রাসী ক্রিকেট খেলে, আমার কাছে মনে হয় কঠিন। কন্ডিশন আর পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলাটাই গুরুত্বপূর্ণ।’




