
রিয়াদ, ১৭ মে – পবিত্র হজ মৌসুমকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে আগত লাখ লাখ হাজিদের জন্য একগুচ্ছ নজিরবিহীন ও কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এবারের হজে মক্কা, মদিনা এবং অন্যান্য পবিত্র স্থানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক পতাকা প্রদর্শন, স্লোগান দেওয়া কিংবা মিছিল করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মূলত হজের পবিত্রতা রক্ষা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং হাজিদের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতেই সৌদি কর্তৃপক্ষ এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
যেসব জায়গায় কার্যকর থাকবে এই নিষেধাজ্ঞা:
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু মূল মকামে নয়, হাজিদের সমাগম হয় এমন প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে:
- মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী: মক্কার কাবা শরিফ এবং মদিনার নথিপত্র চত্বরসহ মূল মসজিদ প্রাঙ্গণ।
- পার্শ্ববর্তী চত্বর: দুই পবিত্র মসজিদের চারপাশের খোলা জায়গা ও আঙিনা।
- প্রধান সংযোগ সড়ক: পবিত্র স্থানগুলোতে (মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফা) যাওয়ার প্রধান রাস্তা ও মহাসড়কগুলো।
নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, পবিত্র স্থানগুলোতে হাজিদের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য স্থাপিত কোনো ধরনের ব্যারিয়ার (প্রতিবন্ধকতা) খোলা, সেগুলোর কাজে বাধা দেওয়া বা জোরপূর্বক অতিক্রম করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। হজের পুরো কার্যক্রম যাতে নির্বিঘ্ন হয় এবং হাজিদের যাতায়াত যেন মসৃণ থাকে, সেজন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের কড়া হুঁশিয়ারি—নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশনা অমান্য করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হবে।
মন্ত্রণালয় আরও স্পষ্ট করেছে যে, মক্কায় প্রবেশ এবং সেখানে অবস্থানের জন্য অবশ্যই বৈধ হজ পারমিট থাকতে হবে।
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মক্কার প্রবেশদ্বারসহ বিভিন্ন চেকপয়েন্টে এই পারমিট কঠোরভাবে পরীক্ষা করছেন। বৈধ কাগজপত্র বা পারমিট ছাড়া স্থানীয় কিংবা বিদেশি—কাউকেই মক্কায় ঢুকতে দেওয়া হবে না।
ইতোমধ্যে মসজিদুল হারামসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে হাজিদের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং একই সঙ্গে শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এনএন/ ১৭ মে ২০২৬






