সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর: ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হচ্ছে ৯ম পে-স্কেল – DesheBideshe

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর: ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হচ্ছে ৯ম পে-স্কেল – DesheBideshe


সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর: ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হচ্ছে ৯ম পে-স্কেল – DesheBideshe

ঢাকা, ১৭ মে – সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যার জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার।

সচিবালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই চূড়ান্ত সবুজ সংকেত মিলেছে। তবে একসঙ্গে নয়, দেশের অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ কমাতে মোট তিনটি ধাপে (ফেজ) এই বিশাল পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপেই কর্মচারীরা বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পেয়ে যাবেন।

অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব পুরোপুরি কার্যকর করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এই বিশাল আর্থিক চাপ সামলাতেই সরকার কৌশলগতভাবে ধাপে ধাপে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে:

প্রথম ধাপ (আগামী অর্থবছর): নতুন বেতন কাঠামোর অধীনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এজন্য আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপ: মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে।

তৃতীয় ধাপ: মূল বেতনের সঙ্গে বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পুরোপুরি সমন্বয় করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তিন বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ফলে দেশের সামগ্রিক বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির চাপ পড়বে না এবং সরকারের নগদ অর্থায়ন ব্যবস্থাপনাও অনেক সহজ হবে।

কমিশন ও কমিটির খসড়া অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। এই কাঠামো অনুমোদিত হলে গ্রেডভেদে কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনা হচ্ছে।

এর ফলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনা হচ্ছে, যা বৈষম্য কমাতে সাহায্য করবে। এই কাঠামো অনুমোদিত হলে গ্রেডভেদে কর্মচারীদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি বৃদ্ধি পাবে।

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বাজেট সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টানা দুদিনের এই রুদ্ধদ্বার আলোচনায় নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা, খাতভিত্তিক বরাদ্দ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর আহরণের সার্বিক চিত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। সব দিক পর্যালোচনার পরই নতুন বেতন কাঠামো চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোতে বর্ধিত বেতন পাবেন, এ নিয়ে এখন আর কোনো সংশয় নেই। অর্থমন্ত্রীর আসন্ন বাজেট বক্তৃতার খসড়াতেও এই কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

বর্তমানে দেশের প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা মেটাতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় হয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন এই পে-স্কেল কার্যকর হলে এই ব্যয় আরও বহুগুণ বাড়বে। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির এই সময়ে নতুন পে-স্কেলের খবরে সরকারি চাকরিজীবী পরিবারগুলোতে এখন আনন্দের বন্যা বইছে।

এনএন/ ১৭ মে ২০২৬



Scroll to Top