সুইজারল্যান্ডের অভিজ্ঞতা নাকি কানাডার স্বাগতিক সুবিধা, নকআউটের দৌড়ে কে এগিয়ে? | চ্যানেল আই অনলাইন

সুইজারল্যান্ডের অভিজ্ঞতা নাকি কানাডার স্বাগতিক সুবিধা, নকআউটের দৌড়ে কে এগিয়ে? | চ্যানেল আই অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল মহাযজ্ঞ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর। প্রথমবারের মত অংশ নিতে চলা ৪৮ দলের আসরটিতে প্রথমবার বাছাইপর্ব পেরিয়ে এসেছে কাতার। ২০২২ আসরে স্বাগতিক হিসেবে জায়গা প্রথম বিশ্বকাপ খেলা দলটি আছে গ্রুপ ‘বি’তে। গ্রুপটিতে স্বাগতিক কানাডার পাশাপাশি লড়বে ইউরোপের চেনা শক্তি সুইজারল্যান্ড এবং বলকান অঞ্চলের লড়াকু দল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।

কাগজে-কলমে এবং শক্তিমত্তায় এই গ্রুপে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। বড় টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা এবং স্কোয়াডের গভীরতা তাদের গ্রুপ সেরা হওয়ার দৌড়ে ফেভারিট করে তুলেছে।

তবে দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউটে যাওয়ার লড়াইটি হবে ত্রিমুখী এবং তীব্র রোমাঞ্চকর। যেখানে টরন্টো এবং ভ্যানকুভারের ঘরের মাঠে কানাডা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। আলফোনসো ডেভিসের গতি যদি প্রতিপক্ষ দলগুলো থামাতে না পারে, তবে কানাডা এবার তাদের ইতিহাসের প্রথম নকআউট টিকিট পেয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে, বসনিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, বাছাইপর্বে ইতালিকে বিদায় করে এসেছে। আর কাতার যদি এশিয়ান কাপের ফর্ম ধরে রাখতে পারে, তবে তারাও গ্রুপে বড় অঘটন ঘটাতে পারে। শক্তিমত্তা ও ইতিহাসের বিচারে কে কতটা এগিয়ে, চলুন দেখে নেওয়া যাক চ্যানেল আই অনলাইনের বিশ্লেষণ এক নজরে।

ফিফার সবশেষ প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিংয়ে অবশ্য ‘বি’ গ্রুপে সবার চেয়ে এগিয়ে সুইজারল্যান্ড। ১৯ নম্বরে আছে তারা। এরপরই অবস্থান কানাডার, র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩০ নম্বরে নর্থ আমেরিকার দলটি। ৫৫ নম্বরে থাকা কাতার আছে তৃতীয় স্থানে। সবার শেষে অবস্থান করা বসনিয়ার ফিফা র‌্যাঙ্কিং ৬৫তম।

সুইজারল্যান্ড
বিশ্বকাপে সুইসদের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। এটি তাদের টানা পঞ্চম এবং সবমিলিয়ে ১৩তম বিশ্বকাপ। বিগত বিশ্বকাপগুলোতে তারা নিয়মিত নকআউট পর্বে খেলেছে। দলটির মূল শক্তি তাদের ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলা এবং ধারাবাহিকতা। ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ লিগে খেলা তারকাদের নিয়ে গঠিত এই দল যেকোনো বড় প্রতিপক্ষকে রুখে দিতে পারে।

কানাডা
তৃতীয়বার বিশ্বকাপে অংশ নিতে চলেছে কানাডা। ১৯৮৬ এবং ২০২২ আসরের এর পর স্বাগতিক হিসেবে এবারের বিশ্বকাপ খেলবে তারা। আগের দুই আসরে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল দেশটির। এবার ঘরের মাঠ এবং নিজেদের চেনা কন্ডিশন এগিয়ে রাখবে কানাডাকে। বায়ার্ন মিউনিখের গতি তারকা আলফোনসো ডেভিস এবং জুভেন্টাসের স্ট্রাইকার জোনাথন ডেভিড দলটির মূল চালিকাশক্তি। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের খোঁজে আসর শুরু করবে দেশটি।

কাতার
২০২২ সালের আয়োজক হিসেবে প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর, এটি কাতারের টানা দ্বিতীয় এবং যোগ্যতা অর্জন করে আসা প্রথম বিশ্বকাপ। ওমান ও আরব আমিরাতকে হারিয়ে এশিয়া অঞ্চল থেকে তারা শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে দলটি। এশিয়ান কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দলটির আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। দীর্ঘ সময় একসঙ্গে খেলার কারণে খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়াও দারুণ। কানাডার মত কাতারও নিজেদের প্রথম জয়ের খোঁজে, ২০২২ সালে খালি হাতেই গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
২০১৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলে বসনিয়া। বাছাইপর্বে প্লে-অফে ইতালি ও ওয়েলসের মতো জায়ান্টদের টাইব্রেকারে স্তব্ধ করে এক যুগ পর জায়গা করে নিয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপে। দ্বিতীয়বারের মত অংশ নেয়া দলটি এবারের আসর শুরু করবে দ্বিতীয় জয়ের খোঁজে। ২০১৪ বিশ্বকাপে ইরানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয় তাদের প্রথম এবং একমাত্র।

Scroll to Top