
মুম্বাই, ০৯ অক্টোবর – ১৯৯৮ সালের বহুল আলোচিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলা এবং বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের জীবনের স্পর্শকাতর ঘটনাপ্রবাহ কেন্দ্র করে নির্মিতব্য ‘কালা হিরাণ: ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ সিনেমাটি ঘিরে আইনি লড়াই এবার এক নতুন মোড় নিয়েছে। সিনেমাটির প্রচার ও মুক্তি আটকে দিতে সালমান খান নিজেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে এবার সেই মামলাতেই উঠল আদালতের ‘ভৌগোলিক বিচারিক এখতিয়ার’ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন।
ছবিটির প্রযোজক অমিত জানির দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিল্লি হাইকোর্ট সালমান খানের বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিশ জারি করেছেন। বিচারপতি তেজস কারিয়ার একক বেঞ্চ আগামী ১৬ ডিসেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
১. কেন উঠল আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন?
প্রযোজক অমিত জানির পক্ষে তার আইনজীবী আদালতে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, এই মামলাটি শুনে আদেশ দেওয়ার মতো ভৌগোলিক বিচারিক এখতিয়ার দিল্লি হাইকোর্টের নেই। প্রযোজক পক্ষের মূল যুক্তিগুলো হলো:
- মামলার প্রধান আবেদনকারী সালমান খান স্থায়ীভাবে মুম্বাইয়ের বাসিন্দা।
- সিনেমাটির প্রযোজক অমিত জানি থাকেন উত্তর প্রদেশের মিরাটে।
আদালতে বলা হয়, দুই পক্ষের কেউই দিল্লির বাসিন্দা নন কিংবা সেখানে তারা কোনো স্থায়ী ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেন না। সারা দেশের মতো দিল্লিতেও সিনেমাটির টিজার, পোস্টার ও প্রচারসামগ্রী প্রদর্শিত হওয়াকে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারিক এখতিয়ার প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট বিবেচনা করা যায় না। তাই প্রযোজক পক্ষ থেকে সালমানের দায়ের করা মূল আবেদনটি সরাসরি খারিজের দাবি জানানো হয়েছে।
২. কেন সিনেমাটির মুক্তি বন্ধ চান সালমান খান?
এর আগে সালমান খান হাইকোর্টে আর্জি জানিয়ে সিনেমাটির ট্রেলার প্রকাশ ও প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি স্থগিতের আবেদন করেছিলেন। অভিনেতার মূল অভিযোগগুলো ছিল:
ব্যক্তিস্বার্থ ও ইমেজে আঘাত: চলচ্চিত্রে তার নাম, চালচলন, কথা বলার ধরন এবং তার ক্যারিয়ারের বিভিন্ন আইকনিক আবহ হুবহু ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বিচারাধীন মামলায় প্রভাব: হরিণ শিকার সম্পর্কিত ৪টি মামলার মধ্যে ৩টিতে তিনি আদালতের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই খালাস পেয়েছেন এবং বাকি আপিলগুলো এখনও রাজস্থান হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। এই অবস্থায় সিনেমায় মনগড়া নাটকীয়তায় তার বিচার প্রক্রিয়া তুলে ধরলে তা তার নিরপেক্ষ বিচার পাওয়ার আইনি অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করবে।
অপরাধী হিসেবে চিত্রায়ণ: ছবির টিজার ও প্রচারসামগ্রীতে তাকে পরোক্ষভাবে অপরাধী হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা তার সামাজিক সম্মান ও ভাবমূর্তির জন্য চরম ক্ষতিকর।
৩. ১৬ ডিসেম্বরে নজর পুরো বিনোদন বিশ্বের
প্রযোজক অমিত জানির নতুন এই এখতিয়ারসংক্রান্ত আইনি প্যাঁচে সালমানের পুরো পদক্ষেপটি আপাতত থমকে গেছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত নেবেন—তারা এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন, নাকি এখতিয়ার না থাকার কারণে মামলাটি খারিজ করে উপযুক্ত বিচারালয়ে পাঠাবেন।
সালমান খানের জীবনের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় নিয়ে নির্মিত এই সিনেমা শেষ পর্যন্ত প্রেক্ষাগৃহে আলোর মুখ দেখবে, নাকি আইনি জটিলতায় আটকে থাকবে—তা জানতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে সালমান-ভক্ত ও বলিউড পাড়াকে।
এনএন/ ০৯ অক্টোবর ২০২৬



