শ্রীমঙ্গলের ৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলছে বইপড়া উৎসব। শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘বই পড়ি, মন গড়ি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত ‘শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসবে অংশ নিচ্ছে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী। প্রশাসনের আয়োজনে সহযোগিতা করছে ‘শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসব’ এবং ‘উত্তরণ’ পাঠকসংঘ।
বই পড়ার এই ভিন্নধর্মী আয়োজন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক থেকে শুরু করে সাধারণ বইপ্রেমী সবার মধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা, ইতিহাস ও বিজ্ঞানভিত্তিক বইয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতেই এই উৎসবের আয়োজন করেছে উদ্যোক্তারা।
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ডিগ্রি ও অনার্স পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এই উৎসবে বিশ্বসাহিত্য ও বাংলা সাহিত্যের ১৪টি বই নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিনের ‘আবিষ্কারের নেশায়’, ড. এ পি জে আবদুল কালামের ‘উইংস অব ফায়ার’, শাহেদ আলীর ‘জিবরাইলের ডানা’, জুল ভার্নের ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ’, হুমায়ুন আজাদের ‘লাল নীল দীপাবলী’, জর্জ অরওয়েলের ‘অ্যানিমেল ফার্ম’, মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের ‘বিলেতে সাড়ে সাত শ দিন’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘মরু-ভাস্কর’ ও ‘মৃত্যুক্ষুধা’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রাশিয়ার চিঠি’, সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশে বিদেশে’, জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’, আনোয়ার পাশার ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ এবং বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আরণ্যক’। এ ছাড়া উন্মুক্ত বিভাগের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলামের ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’।

এই বইগুলো পড়ে শিক্ষার্থীরা তিন ধাপের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। প্রথম ধাপের নাম ‘মুকুল পর্ব’। এরমধ্যেই ‘মুকুল পর্বের’ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই পর্বে প্রতিটি শ্রেণির সেরা ১০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ধাপ বা ‘ফুল পর্ব’। সবশেষে প্রতিটি শ্রেণির সেরা তিনজনকে নিয়ে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর উপজেলা পর্যায়ে ‘ফল পর্ব’ অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ীদের জন্য ল্যাপটপ, বই, ক্রেস্টসহ বিভিন্ন পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে শ্রীমঙ্গলে উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মজিবুর রহমান চৌধুরী। সমাবেশে তিনি বলেন, ‘বই মানুষের মনন ও মানসিকতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গল্প, উপন্যাস, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও ভ্রমণসহ বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার সুযোগ করে দিতে হবে। নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠলে শিক্ষার্থীরা সুস্থ, সুন্দর ও ইতিবাচক চিন্তাধারায় বেড়ে উঠবে।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান জানান, ‘আমাদের চাওয়া হচ্ছে, পাঠকার্যক্রমের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীরা যেন সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। তরুণদের বড় একটি অংশ এখন স্ক্রিননির্ভর হয়ে পড়েছে। আমরা চাই, তারা আবার বইয়ের জগতে ফিরে আসুক। তিনি আশাপ্রকাশ করে বলেন, ‘একটি-দুটি বই হয়তো কাউকে বদলে দেবে না, কিন্তু নিয়মিত পড়ার অভ্যাস একজন মানুষকে সমৃদ্ধ করবে। আমরা শ্রীমঙ্গলে বই পড়াকে একটি সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে চাই।’ উৎসবের প্রধান সমন্বয়ক, আবৃত্তিকার দেবাশীষ দাশ জানান, ‘মোবাইল ও সামাজিক মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারে শিশু-কিশোরদের পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে। সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে আনতে আমাদের এই আয়োজন।