মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আপনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন যেন দেশের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন হয় শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষা পায়। কিন্তু বিষয়টি ফ্যাসিস্ট আমলে সাজানো শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত অনেকের কাছে মনঃপূত হচ্ছে না। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই আপনার ভালো উদ্যোগ গুলো পরিবেশিত হচ্ছে ভিন্ন উপস্থাপনায়। যার ফলে শিক্ষার্থী আর অভিভাবকগন এখন আপনাকে প্রতিপক্ষ ভাবছে।
শিক্ষা ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত সকল ধাপে অনৈতিক সুবিধার দেনা-পাওনা তো নতুন কোন বিষয় না। সঠিক হিসাব করলে দেখা যাবে – দুর্নীতিতে তারা রাষ্ট্রের অন্য বিভাগের চেয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছে। খুব কি অবাক করা তথ্য এটি? প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ব্যবস্থাপনায় – কোথায় এতো শিক্ষার আলো?

এবার ফিরি শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের হতাশা আর ক্রোধের বর্তমান বাস্তবতায়। বহুদিন ধরে চলে আসা শিক্ষা ব্যাবস্থাকে যে হঠাৎই পরিবর্তন করা যাবে না, সেটা তো কোন রকেট সায়েন্স না! অথচ মন্ত্রণালয় বুঝে হোক বা না বুঝে; সেটাই করছে, যা আল্টিমেটলি শিক্ষার্থীদের চরম ভোগাচ্ছে। হতে পারে সরকার আর শিক্ষামন্ত্রীকে বিতর্কিত করতে পেছনে কোন পক্ষ কোন এক নকশা অনুযায়ী আগাচ্ছে। না হলে হঠাৎ এতো অসম্ভব পরিবর্তন কেনো?
একদিকে অধিকাংশ স্কুল, কলেজে ক্লাসে ঠিকমতো পড়ানো হচ্ছে না; আবার অন্যদিকে শিক্ষকদের কাছে কোচিং না করলে তারা ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার উপযোগী করতে সাহায্যও করছেন না। এদিকে আবার শিক্ষা কারিকুলামের ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীরা বোঝাপড়ায় হিমশিম খাচ্ছে। সবশেষে অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা ফেস করার পূর্ণ প্রস্তুতি না থাকার বিপরীতে জানার বাইরে প্রশ্ন তৈরি, একাধিক প্রশ্ন সেট, হলে সিসিটিভি ক্যামেরা সেট করে আতংক তৈরি আর লঘু কারণে গুরু দন্ড দেবার (হলে ঢুকতে না দেয়া, হল থেকে বের করে দেয়া, দীর্ঘসময় দাড় করিয়ে রাখা, খাতা নিয়ে নেয়া) এই নতুন ব্যবস্থা কতটুকু যৌক্তিক?
শ্রেনী কক্ষে পড়ালেখা না করিয়ে, পাঠ্যক্রমকে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় ধ্বংস করবার অংশ হিসেবে যে ভয়ংকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো, সেই প্রক্রিয়ায় লেখাপড়া হয়ে উঠেছিলো গৌণ বিষয়। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ স্লোগানের আড়ালে আসলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বাইরে রাখার চক্রান্তই করা হয়েছিলো। যাতে তারা ডিজিটাল ডিভাইস আর কোচিং বানিজ্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
শিক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার আগে মন্ত্রণালয়ে কি কোন ব্রেইন স্টর্মিং হয়, মেরিট-ডিমেরিট নিয়ে ডিবেট হয়? শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পরামর্শ চাওয়া হয়? প্রথিতযশা কোন শিক্ষাবিদের ওপিনিয়ন চাওয়া হয়?

ইদানীং শিক্ষামন্ত্রী নিয়ে কিছু ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্রুপাত্মক যে আচরণ আমরা দেখতে পাচ্ছি, সেটাকে হাল্কা করে দেখবার সুযোগ সত্যিই আছে? কেউ কেউ একধাপ এগিয়ে অভব্য কায়দায় তাকে যাচ্ছেতাই বলে যাচ্ছে, যা কোন শিক্ষার্থীদের কাছে কখনো কাম্য নয়। অনেক অভিভাবকেরাও তাদের সন্তানদের বিপর্যয় আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে চিন্তিত ও বিরক্ত হচ্ছেন। ফলে কেউ কেউ মেজাজ হারিয়ে স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা ব্যাবস্থা, আর সরকারের বিষোদগার করতেও দ্বিধা করছেন না। সোশ্যাল মিডিয়াও ভিউ বাণিজ্যের জন্য সেসব দেদারসে প্রচার করে বেড়াচ্ছে! শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে এইসব কি বার্তা দিচ্ছে; সেটা কি কেউ আদৌও ভেবে দেখেছেন?
(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই–এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)





