রাজধানীর রামপুরা ও খিলগাঁও এলাকার পরিবেশ ও নদী রক্ষার প্রতীক হিসেবে স্থাপিত নড়াই নদীর নামফলক (সাইনবোর্ড) চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নামফলকটি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে পরিবেশ ও নদী রক্ষায় কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নোঙর বাংলাদেশ।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নোঙর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুমন শামস রামপুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৮৮৩) করেন।
জিডি গ্রহণের পর রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এসআই পলাশ কুমার ঘোষকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
নোঙর বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর নড়াই নদী রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত মানববন্ধন ও নৌ-র্যালির সময় দেশের পরিবেশবিদ ও নদীপ্রেমীদের উপস্থিতিতে নামফলকটি স্থাপন করা হয়। এরপর থেকে এটি নদী সংরক্ষণ ও পরিবেশ সচেতনতার প্রতীক হিসেবে সেখানে ছিল। তবে গত ২৬ জুন সকাল ১০টার পর থেকে নামফলকটি আর নির্ধারিত স্থানে দেখা যাচ্ছে না।
সংগঠনটির দাবি, নড়াই নদীর অস্তিত্ব আড়াল করা এবং নদী দখলের উদ্দেশ্যে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে নামফলকটি সরিয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নোঙর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সুমন শামস বলেন, ‘নদীর নামফলক চুরি কেবল একটি সাইনবোর্ড চুরি নয়, এটি আমাদের নদী ও পরিবেশের ওপর এক ধরনের হামলা। নদীখেকো চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নদীর সীমানা ও অস্তিত্ব রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
নোঙর বাংলাদেশ গণমাধ্যম, প্রশাসন এবং সচেতন নাগরিকদের নড়াই নদী রক্ষার আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং নড়াই নদীর নামফলকটি পুনঃস্থাপনের ব্যবস্থা করা হোক।





