
তেহরান, ১৫ মে – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের (জায়নবাদী) আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের ‘সাহসী প্রতিরোধ’ দেশটিকে আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তিনি দাবি করেন, মহাকবি ফেরদৌসির অমর সৃষ্টি ‘শাহনামা’র বীরত্বগাথা কেবল কল্পনা নয়, বরং তা ইরানিদের জীবনের কঠিন বাস্তবতা।
শুক্রবার (১৫ মে) ইরানের ‘জাতীয় ফার্সি ভাষা সংরক্ষণ দিবস’ এবং খ্যাতিমান কবি ফেরদৌসিকে স্মরণ করে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আয়াতুল্লাহ খামেনি তার বিবৃতিতে কবি ফেরদৌসির বিশ্ববিখ্যাত মহাকাব্য শাহনামার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, ফেরদৌসির কিংবদন্তি গল্পগুলো কেবল কাব্যিক কল্পনা নয়; এগুলো ইরানিদের বীরত্বপূর্ণ চরিত্র এবং সাম্প্রতিক ‘পবিত্র প্রতিরোধের’ মধ্যেই প্রতিফলিত হচ্ছে। শাহনামার কোরআনপ্রাণ ধারণাগুলো ইরানের সকল জাতিগোষ্ঠী ও সামাজিক শ্রেণিকে এক সুতায় গেঁথেছে, যা দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
ইরানি পুরাণে অশুভ শক্তির প্রতীক ‘জাহাক’ চরিত্রটির উদাহরণ টেনে খামেনি বর্তমান বিশ্বের বিদেশি শক্তি ও আগ্রাসকদের কঠোর বার্তা দেন। তিনি মনে করেন, শাহনামার বীরত্বগাথা থেকে প্রেরণা নিয়েই ইরানি যোদ্ধারা আধুনিক যুগের ‘জাহাকদের’ অর্থাৎ বিদেশি শত্রুদের মোকাবিলা করছে।
বিবৃতিতে সর্বোচ্চ নেতা আরও উল্লেখ করেন যে, ফার্সি ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চাই ইরানি জাতির সাহসের প্রধান উৎস। ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে ইরান প্রমাণ করেছে যে কোনো বহিঃশক্তির চাপ বা নিষেধাজ্ঞার কাছে তারা মাথা নত করবে না। তার মতে, ফার্সি সাহিত্যের শক্তিতেই ইরান তার জাতীয় আত্মপরিচয় ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
ফেরদৌসির স্মরণে দেওয়া এই বার্তাটি এমন এক সময়ে এল যখন পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এক নতুন শিখরে পৌঁছেছে।
এনএন/ ১৫ মে ২০২৬






