
বৈরুত, ৩১ মে – লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ঐতিহাসিক বোফোর্ট দুর্গটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শনিবার এই ঘোষণা দেন। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই দুর্গটি লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলে অবস্থিত।
ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানটি তারা দখল করেছে। তবে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে লেবানন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও এপির তথ্যমতে, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরের সন্নিকটে অবস্থিত এই মধ্যযুগীয় দুর্গে ইসরায়েলি সেনারা প্রবেশ করেছে।
পরবর্তীতে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান দুর্গের শীর্ষে ইসরায়েলি জাতীয় পতাকা ও গোলানি ব্রিগেডের পতাকা ওড়ানোর একটি ছবি প্রকাশ করে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরাসরি নির্দেশনায় লেবাননে অভিযানের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। তিনি জানান, লিতানি নদী অতিক্রম করে ইসরায়েলি বাহিনী বোফোর্ট রিজের দখল নিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক বার্তায় কাটজ উল্লেখ করেন যে, গ্যালিলি অঞ্চলের বসতিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নিজ বাহিনীর সুরক্ষায় বোফোর্ট রিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত পয়েন্ট। এই অভিযানটির খবর আগে প্রকাশ করা হয়নি এবং বর্তমানে সেখানে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, তারা বোফোর্ট রিজ এবং ওয়াদি আল সালুকি এলাকায় বৃহৎ পরিসরে অভিযান পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে এই অভিযানের মাত্রা আরও বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।
গত শুক্রবার সীমান্ত এলাকা সফরকালে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিশ্চিত করেন যে তার দেশের সেনারা লিতানি নদী অতিক্রম করেছে। তিনি আরও জানান, বৈরুত ও বেকা উপত্যকাসহ বিভিন্ন স্থানে বর্তমানে অভিযান চলছে।
ঐতিহাসিকভাবে বোফোর্ট দুর্গটি একটি উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত যা মধ্যযুগীয় ক্রুসেডারদের নির্মিত। লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দুর্গটি থেকে বিশাল এলাকা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
এর আগেও ১৯৮২ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ বছর দুর্গটি ইসরায়েলিদের দখলে ছিল। পরবর্তীতে ২০০০ সালে আন্তর্জাতিক চাপে সেনা প্রত্যাহারের সময় তারা এর নিয়ন্ত্রণ হারায়।
দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবারও লেবাননের অভ্যন্তরে এত বড় সামরিক অগ্রযাত্রার দাবি করল ইসরায়েল।
এনএন/ ৩১ মে ২০২৬






