রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথম সড়ক সেতু উদ্বোধন – DesheBideshe



সড়ক সেতু

মস্কো, ৮ সেপ্টেম্বর – রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তুমেন নদীর ওপর নির্মিত এই নতুন সেতুর মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটির উদ্বোধন করা হয়।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে এই সেতুটি মূলত জনবল বিনিময়, পর্যটন ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে। রুশ প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এই সেতুটিকে দুই দেশের বন্ধুত্বের এক নতুন প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থায়ে সং একে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন। রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের তথ্য অনুযায়ী, এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন এবং ২ হাজার ৩২৩ জন মানুষ পারাপার হতে পারবেন।

তবে ইউক্রেনভিত্তিক অনুসন্ধানী সংস্থা ট্রুথ হাউন্ডস দাবি করেছে যে এই সেতুটি কেবল বাণিজ্য বা পর্যটনের জন্য নয় বরং ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার জন্য একটি গোপন সামরিক সরবরাহ করিডর হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পিয়ংইয়ং সফরের সময় স্বাক্ষরিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তির অংশ হিসেবেই এই অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি এবং জনবল সহজে রাশিয়ায় পৌঁছাতে পারবে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র ও কয়েক হাজার সেনা রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। আগে এই দুই দেশের মধ্যে কোনো স্থায়ী সড়ক পথ ছিল না।

রেলসেতুর ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে অস্থায়ীভাবে যাতায়াত করা হতো। নতুন এই সেতু সেই সীমাবদ্ধতা দূর করল। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর সাথে নতুন সংযোগ সড়ক এবং সীমান্ত চৌকিও স্থাপন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পণ্যবাহী যান চলাচল শুরু হলেও বছরের শেষ নাগাদ যাত্রী পারাপারও শুরু হবে। রুশ সরকার আশা করছে যে এই প্রকল্প দুই দেশের অর্থনীতি ও বিজ্ঞান ক্ষেত্রে শক্তিশালী গতি সঞ্চার করবে।

এস এম/ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Scroll to Top