
মস্কো, ৮ সেপ্টেম্বর – সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ মনে করেন, এই জোটে ইরানের অংশগ্রহণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হতে পারে।
সোমবার মস্কো স্টেট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্সে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ল্যাভরভ উল্লেখ করেন যে, উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে একটি অভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব রাশিয়া দুই দশকেরও বেশি আগে দিয়েছিল।
সেই কাঠামোয় আরব রাজতন্ত্রগুলোর পাশাপাশি ইরানকেও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক জটিল হলেও রাশিয়া তাদের মধ্যে আলোচনা আয়োজন এবং আস্থা তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা করতে আগ্রহী ছিল।
ইরান ও সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে চীনের মধ্যস্থতা ও রাশিয়ার সক্রিয় ভূমিকার কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার আগেই দেশ দুটির সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগিয়েছিল।
সম্প্রতি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি উপস্থাপন করেছে, সেটিকে একটি সম্মিলিত নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে দেখছে মস্কো। ল্যাভরভ মনে করেন, ভবিষ্যতে এই জোটে মিসর ও আলজেরিয়ার মতো দেশগুলোকেও যুক্ত করা যেতে পারে। তবে এই ধরনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রাশিয়া নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন।
এস এম/ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বর্তমানে কোন দেশগুলি আছে?
বর্তমানে চুক্তিটির মূল স্বাক্ষরকারী দেশ হল সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। চুক্তিটি ৭ আগস্ট ২০২৬ মক্কায় স্বাক্ষরিত হয়।
ইরান কি মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিয়েছে?
না। ইরান এখনও চুক্তির সদস্য নয়। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইরানের অংশগ্রহণের শর্ত নিয়ে সমঝোতার পক্ষে মত দিয়েছেন।
ল্যাভরভ ইরানকে কেন যুক্ত করার কথা বলেছেন?
ল্যাভরভের মতে, ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করার শর্তে ঐকমত্য হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির দিকে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হতে পারে।
মক্কা চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হয়?
৭ আগস্ট ২০২৬ সৌদি আরবের মক্কায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
মক্কা চুক্তির মূল উদ্দেশ্য কী?
চুক্তির লক্ষ্য তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা। কোনও সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার ব্যবস্থাও এতে রয়েছে।
আর কোন দেশ এই কাঠামোয় যুক্ত হতে পারে?
ল্যাভরভ মিসর ও আলজেরিয়ার সম্ভাব্য অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে এগুলি এখনও সম্ভাবনা, আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ নয়।
