রাশিয়ায় প্রথমবারের মতো দুই হিউম্যানয়েড রোবটের প্রতীকী বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। ‘রবার্ট’ ও ‘মাটিল্ডা’ নামের এই দুই রোবটকে ঘিরে ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় মস্কোর ঐতিহাসিক পুশকিন লাইব্রেরিতে। ‘ডে অব ফ্যামিলি, লাভ অ্যান্ড ফিডেলিটি’ উপলক্ষে আয়োজিত এই আয়োজন প্রযুক্তিপ্রেমীসহ সাধারণ মানুষের ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এটি কোনো আইনগত বিয়ে নয়। বরং হিউম্যানয়েড রোবটের সক্ষমতা এবং আধুনিক রোবোটিক প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরতেই প্রতীকী এই আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে রবার্ট ও মাটিল্ডা একসঙ্গে থাকার প্রতীকী শপথ নেয়। এরপর তারা আংটি ও ব্রেসলেট বিনিময় করে। অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী তাদের ‘রোবট দম্পতি’ হিসেবে ঘোষণা দেন।
বিয়ের পোশাকেও ছিল বিশেষ আকর্ষণ। রবার্টকে কালো স্যুটে এবং মাটিল্ডাকে সাদা বধূবেশে দেখা যায়। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ঐতিহ্যবাহী রুশ বিয়ের নানা রীতি অনুসরণ করা হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই রোবট দর্শকদের সামনে একসঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে এবং নতুন দম্পতির মতো বিভিন্ন সামাজিক আচরণেরও প্রদর্শন করে। অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক প্রযুক্তি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে মানুষের সঙ্গে রোবটের স্বাভাবিক যোগাযোগ ও সামাজিক আচরণ প্রদর্শনের সক্ষমতাও তুলে ধরা হয়েছে।
রাশিয়ায় ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছর ৮ জুলাই ‘ডে অব ফ্যামিলি, লাভ অ্যান্ড ফিডেলিটি’ উদযাপন করা হয়। সেন্ট পিটার ও ফেভরোনিয়ার স্মরণে পালিত এই দিবসটি পারিবারিক বন্ধন, ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। সেই ঐতিহ্যবাহী উদযাপনের অংশ হিসেবেই এবার প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির এক অভিনব সংযোগ ঘটিয়ে এই প্রতীকী রোবট বিয়ের আয়োজন করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক হিউম্যানয়েড রোবট এখন শুধু গৃহস্থালির সাধারণ কাজে সীমাবদ্ধ নয়। উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তারা কণ্ঠস্বর শনাক্ত করতে, মানুষের সঙ্গে কথোপকথন চালাতে, আশপাশের পরিবেশ বিশ্লেষণ করতে, বস্তু শনাক্ত করতে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলাচল করতে সক্ষম। মানুষের মতো নকশা হওয়ায় এসব রোবট ভবিষ্যতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, গ্রাহকসেবা এবং বিভিন্ন সেবামূলক খাতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




