বিখ্যাত ভারতীয় আলোকচিত্রী রঘু রাই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে শরণার্থী শিবির, সীমান্ত এলাকা ও যুদ্ধের বিভীষিকাময় দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করেন, যা বিশ্ববাসীকে নাড়িয়ে দেয়। ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকার হয়ে কাজ করা এই আলোকচিত্রী শরণার্থীদের দুর্দশা ও মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর তোলা দুর্লভ ছবি নিয়ে ‘রাইজ অব আ ন্যাশন’ (রাইজ অব আ ন্যাশন) শীর্ষক বই ও প্রদর্শনী প্রকাশিত হয়েছে, যার জন্য তিনি ১৯৭২ সালে ‘পদ্মশ্রী’ পান।
রঘু রাই ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি
ভূমিকা ও দৃষ্টিভঙ্গি: রঘু রাই ১৯৭১ সালের আগস্টে যশোরের শরণার্থী শিবির ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে কাজ করেন। তিনি কেবল যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ নয়, বরং হাজার হাজার মানুষের পায়ে হেঁটে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার করুণ দৃশ্য এবং তাদের নীরব দীর্ঘশ্বাস ক্যামেরায় বন্দী করেন।
দুর্লভ আলোকচিত্রের সংকলন: ২০২৪ সালের মে মাসে দুর্জয় বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এবং রঘু রায় ফাউন্ডেশন যৌথভাবে ‘রাইজ অব আ ন্যাশন‘ শিরোনামে তাঁর তোলা মুক্তিযুদ্ধের অপ্রকাশিত ছবি নিয়ে বই প্রকাশ করে।
‘রাইজ অব আ ন্যাশন’ প্রদর্শনী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে এই সিরিজের আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
পুরস্কার: বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাকে ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারে ভূষিত করে।
স্মৃতিচারণ: তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, শরণার্থীরা প্রবল বৃষ্টির মধ্যে মৃত্যুর নীরবতা নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে—এই দৃশ্যটি তাঁর চার বছর বয়সের (পাঞ্জাব ত্যাগের সময়কার) স্মৃতিকে ফিরিয়ে এনেছিল, যার ফলে তিনি তাদের কষ্টের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়েছিলেন।
রঘু রাই-এর তোলা ছবিগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ের অসামান্য ভিজ্যুয়াল দলিল, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের মানবিক বিপর্যয় ও বিজয়ের গল্প বলে যাবে।





