যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পথে, খসড়া স্মারকে ১৪ দফা | চ্যানেল আই অনলাইন

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পথে, খসড়া স্মারকে ১৪ দফা | চ্যানেল আই অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যে টানা তিন মাসের সংঘাত বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আজ ৭ মে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, এক পাতার এই খসড়া স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন কাঠামো তৈরি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষায়, যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি।

খসড়া অনুযায়ী, ইরান সাময়িকভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে তেহরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করবে। চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল বা তুলে নেওয়া।

আলোচনার অংশ হিসেবে উভয় দেশই সামরিক উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে খসড়া স্মারকে বেশ কিছু কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে। ইরানকে অন্তত ১২ থেকে ১৫ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখতে হতে পারে। এই সময় শেষ হওয়ার পর দেশটি সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ মাত্রায় নিম্নমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে।

এছাড়া ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, কোনো ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পরিচালনা করবে না এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের আকস্মিক পরিদর্শনের অনুমতি দেবে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে উন্নত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও চালুর প্রস্তাব রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে তা যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের কথাও বিবেচনায় রয়েছে।

চুক্তি কার্যকর হলে সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শুরু হতে পারে। এরপর উভয় পক্ষ ৩০ দিনের একটি বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নেবে। ওই সময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার পূর্ণাঙ্গ চুক্তি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ধাপ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হবে। সম্ভাব্য আলোচনাস্থল হিসেবে ইসলামাবাদ বা জেনেভার নাম উঠে এসেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দুই পক্ষের মধ্যে ভালো আলোচনা হয়েছে এবং একটি সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

অন্যদিকে, ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে সম্মতি দেয়নি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।

Scroll to Top